পারমাণবিক জ্বালানি নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ, আলোচনায় SMR
নিজস্ব প্রতিবেদক॥
দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মোকাবিলা ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে Small Modular Reactor (SMR) প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ২৬ আগস্ট ওয়াশিংটনে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক উঠে আসে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ২৮ আগস্ট নতুন করে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বৈঠকে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে আধুনিক ও নিরাপদ পারমাণবিক প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে বাংলাদেশ উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে SMR নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে সম্ভাবনা যাচাই করছে।
SMR হচ্ছে তুলনামূলক ছোট ক্ষমতার পারমাণবিক চুল্লি, যেগুলো প্রচলিত বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় ভিন্ন কাঠামো ও ধাপে ধাপে স্থাপনের সুযোগ দিতে পারে। তবে বাংলাদেশে এর বাস্তব প্রয়োগের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত প্রকল্প বা ক্রয়চুক্তির ঘোষণা আসেনি।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তিতে সক্ষম দেশগুলোর সঙ্গে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটও পারমাণবিক জ্বালানি ও SMR প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি এবং পরবর্তী প্রজন্মের SMR দ্রুত উন্নয়ন ও ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
বৈঠকের ফলে দুই দেশের জ্বালানি ও পারমাণবিক প্রযুক্তি সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও, কোনো নির্দিষ্ট SMR প্রকল্প, অর্থায়ন বা চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পরবর্তী সময়ে কারিগরি মূল্যায়ন ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতেই এ বিষয়ে অগ্রগতি নির্ধারিত হবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS), বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য।