একাদশে ভর্তির নতুন নীতিমালা: ২ সেপ্টেম্বর আবেদন, ৭% কোটা; মেধাক্রমে থাকছে বিশেষ নিয়ম
শিক্ষা ডেস্ক ||
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রমের নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। নীতিমালা অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে অনলাইনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু হবে। আবেদন করা যাবে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত। ভর্তি কার্যক্রম শেষে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এবারও কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। নতুন নীতিমালায় মোট আসনের ৭ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে। বাকি ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং এসব আসনে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
২ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইন আবেদন
নীতিমালা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হবে ২ সেপ্টেম্বর। শিক্ষার্থীরা ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের ফল পাওয়া শিক্ষার্থীরাও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে পারবেন। পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের ফলে ফল পরিবর্তিত হলে তাদের জন্য ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
৭ শতাংশ কোটা, ৯৩ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে
নতুন নীতিমালায় একাদশ শ্রেণির মোট আসনের ৭ শতাংশ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। বাকি ৯৩ শতাংশ আসনে কোনো কোটা থাকবে না; এসব আসনে শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও সমমানের ফলাফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী ভর্তি করা হবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট কোটায় আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হলে সংশ্লিষ্ট কোটার প্রার্থীদের মধ্যেই মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে। এই ৭ শতাংশ কোটা ব্যবস্থা শুধু ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য।
জিপিএ সমান হলে কীভাবে হবে মেধাক্রম?
একই জিপিএ পাওয়া একাধিক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে প্রথমে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ জিপিএ সমান হলেও যার মোট নম্বর বেশি, মেধাক্রমে সে এগিয়ে থাকবে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করার বিধান রাখা হয়েছে। বিভিন্ন সালের পরীক্ষার ফলাফলের ক্ষেত্রেও গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করা হবে।
বিজ্ঞান বিভাগে সমতা হলে
বিজ্ঞান বিভাগে একই জিপিএ ও একই মোট নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধাক্রম নির্ধারণে প্রথমে সাধারণ গণিত এবং উচ্চতর গণিত/জীববিজ্ঞানে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে।
এরপরও যদি সমতা থেকে যায়, তাহলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে।
মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে
মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে একই জিপিএ ও মোট নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম নির্ধারণে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ের নম্বর বিবেচনা করা হবে।
এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে আবেদন
এক বিভাগের শিক্ষার্থী অন্য বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএ একই হলে প্রথমে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে। এরপরও জটিলতা থাকলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ের নম্বর বিবেচনায় নেওয়া হবে।
নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার
স্কুল অ্যান্ড কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট বিভাগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পাবেন।
২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস
আবেদন, ফল প্রকাশ ও ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু করার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সামনে এখন কলেজ পছন্দ ও অনলাইন আবেদনের প্রস্তুতি নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করেছে। সরকারি নোটিশে নীতিমালাটি প্রকাশের তারিখও ২৪ আগস্ট উল্লেখ করা হয়েছে। (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ)