Columbus, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ খবর
পিএসসিতে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের অপেক্ষা, স্বাভাবিক গতিতে চলছে কার্যক্রম সিপিডির মূল্যায়ন: ছয় মাসে ৩১ সূচকের ১৯টিতেই অবনতি, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এখনো ভঙ্গুর তরুণদের ফ্রি ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেবে সরকার, প্রকল্প ব্যয় ৬৮৩ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ৬ মাসে দলীয় ক্লাবে পরিণত করেছে বিএনপি: নাহিদ ইসলাম নুসরাত হত্যা মামলায় ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনের যাবজ্জীবন ফ্যাসিবাদী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ সংসদের বঙ্গভবনে সপরিবারে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল, দেওয়া হলো গার্ড অব অনার শেখ হাসিনা ইস্যুতে নয়াদিল্লির পরীক্ষা: দ্য স্টেটসম্যানের সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ প্রশাসনিক কারণে তেজগাঁও ও পল্টন মডেল থানার দুই ওসি প্রত্যাহার প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য: সফর হতে হবে সমতা, মর্যাদা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে জহির উদ্দিন স্বপন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিমান থেকে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল: নতুন মুখ ৫, কে পেলেন কোন মন্ত্রণালয়? দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা–চট্টগ্রাম লংমার্চ, প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট
হোম অর্থনীতি সিপিডির মূল্যায়ন: ছয় মাসে ৩১ সূচকের ১৯টিতেই অবনতি, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এখনো ভঙ্গুর

সিপিডির মূল্যায়ন: ছয় মাসে ৩১ সূচকের ১৯টিতেই অবনতি, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এখনো ভঙ্গুর

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৫:৫৩ এএম, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ 25
সিপিডির মূল্যায়ন: ছয় মাসে ৩১ সূচকের ১৯টিতেই অবনতি, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এখনো ভঙ্গুর

ঢাকা: নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রবণতাই বেশি বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মূল্যায়নে, অর্থনীতির ৩১টি প্রধান সূচকের মধ্যে ১২টিতে উন্নতি হলেও ১৯টিতে অবনতি হয়েছে।


সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীতে আয়োজিত ‘দ্য নিউ গভর্নমেন্টস ফার্স্ট সিক্স মান্থস: অ্যান ইকোনমিক রিভিউ’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপে সরকারের প্রথম ছয় মাসের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন তুলে ধরে সিপিডি।


সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এ মূল্যায়ন উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, সরকার এমন একটি অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে যেখানে ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি, আর্থিক চাপ ও স্থবির বিনিয়োগের মতো কাঠামোগত সমস্যা আগে থেকেই ছিল। এর সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।


৩১ সূচকের ১৯টিতে অবনতি

সিপিডির পর্যালোচনায় অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর একটি মিশ্র চিত্র উঠে এসেছে। ৩১টি সূচকের মধ্যে ১২টিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও ১৯টি সূচকে অবনতি হয়েছে।


সংস্থাটির মতে, মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১ শতাংশ থাকলেও জুলাইয়ে তা ৮ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।


তবে মূল্যস্ফীতি কমলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও ক্রয়ক্ষমতার ওপর দীর্ঘদিনের চাপ পুরোপুরি কমেনি বলে মনে করছে সিপিডি।


বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উন্নতি

অর্থনীতির ইতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উন্নতিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখেছে সিপিডি।


সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সরকারের প্রথম ছয় মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কিছুটা শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।


তবে এসব উন্নতির বিপরীতে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, শিল্প উৎপাদন ও রাজস্ব আহরণে কাঙ্ক্ষিত গতি এখনো আসেনি।


বিনিয়োগ ও শিল্প উৎপাদনে উদ্বেগ

সিপিডির মূল্যায়নে দেশের বেসরকারি বিনিয়োগ পরিস্থিতি এখনো দুর্বল। শিল্প খাতও পর্যাপ্ত গতি ফিরে পায়নি।


বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের ধীরগতি, মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির দুর্বলতা এবং নতুন বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা অর্থনীতির পুনরুদ্ধারকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।


শিল্প খাতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যাও উৎপাদন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর শিল্পগুলোতে সরবরাহ সংকট বিনিয়োগ ও উৎপাদন উভয় ক্ষেত্রেই ঝুঁকি তৈরি করছে।


কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক কর্মসংস্থান। কিন্তু নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে কর্মসংস্থান পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতির প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে সিপিডি।


শিল্প উৎপাদনের স্থবিরতা, বিনিয়োগের দুর্বলতা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির গতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।


সিপিডির মূল্যায়নে, অর্থনীতির প্রকৃত পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে হলে শুধু সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নয়, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপরও জোর দিতে হবে।


রাজস্ব আদায়ে বড় চাপ

রাজস্ব আহরণকে অর্থনীতির অন্যতম বড় দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিপিডি।


সরকারের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায়ের গতি দুর্বল থাকায় ভবিষ্যতে বাজেট বাস্তবায়ন ও সরকারি ব্যয়ের ওপর চাপ বাড়তে পারে। রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কার এবং কর প্রশাসনের দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।


একই সঙ্গে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা আরও বাস্তবসম্মত ও সমন্বিত করার পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি।


ব্যাংক খাতেও রয়ে গেছে সংকট

দেশের ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এখনো অর্থনীতির অন্যতম বড় ঝুঁকি বলে উল্লেখ করেছে সিপিডি।


ব্যাংকগুলোর তারল্য, সুশাসন, খেলাপি ঋণ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দূর করতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রয়োজন। শুধু সংকট মোকাবিলার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নয়, ব্যাংক খাতকে টেকসই করতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি বলে মনে করছে সংস্থাটি।


জ্বালানি সংকট বিনিয়োগের বড় বাধা

শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জ্বালানি সংকটকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখেছে সিপিডি।


গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি এবং বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন সমস্যা শিল্প উৎপাদনের ব্যয় বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।


সিপিডির মতে, জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা না গেলে শিল্প উৎপাদন ও বিনিয়োগে কাঙ্ক্ষিত গতি আনা কঠিন হবে।


কিছু সরকারি উদ্যোগকে ইতিবাচক বলেছে সিপিডি

নেতিবাচক প্রবণতার পাশাপাশি সরকারের বেশ কিছু পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবেও দেখেছে সিপিডি।


এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক খাতে সংস্কারের উদ্যোগ, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করার কিছু পদক্ষেপ, রপ্তানিমুখী শিল্পে সুবিধা সম্প্রসারণ, ডিজিটাল কর ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের সম্প্রসারণ।


তবে এসব উদ্যোগের বাস্তব ফলাফল পেতে আরও সময় এবং কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।


সমন্বিত সংস্কারের পরামর্শ

সিপিডির মূল্যায়নে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত পুনরুদ্ধারের পরিবর্তে দীর্ঘায়িত পুনরুদ্ধারের দিকে এগোতে পারে, যদি কাঠামোগত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা না হয়।


এ কারণে একটি বাস্তবসম্মত আর্থিক কাঠামো, সমন্বিত সংস্কার প্যাকেজ এবং অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয়ের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।


ব্যাংকিং খাত, রাজস্ব ব্যবস্থা, জ্বালানি, বিনিয়োগ, সরকারি ব্যয়, শিল্প ও কর্মসংস্থান—এসব খাতে একই সঙ্গে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সিপিডি।


অর্থনীতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

সিপিডির ছয় মাসের মূল্যায়নে সামগ্রিকভাবে যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাতে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার কিছু লক্ষণ দেখা গেলেও কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার এখনো দৃশ্যমান নয়।


মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উন্নতি কিছুটা স্বস্তি দিলেও বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, শিল্প উৎপাদন, রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি সংকটের মতো বিষয়গুলো অর্থনীতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।


সিপিডির মতে, এসব কাঠামোগত সমস্যা সমাধানে দ্রুত ও সমন্বিত সংস্কার বাস্তবায়ন করা না গেলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।