পিএসসিতে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের অপেক্ষা, স্বাভাবিক গতিতে চলছে কার্যক্রম
ঢাকা: সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। তবে শীর্ষ পদটি বর্তমানে শূন্য থাকলেও কমিশনের নিয়মিত কার্যক্রমে বড় কোনো স্থবিরতা তৈরি হয়নি। জ্যেষ্ঠ সদস্যের দায়িত্বে পিএসসির রুটিন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে চলছে।
অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম গত ১৮ আগস্ট পিএসসি চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের পর নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়ার দিকে নজর রয়েছে চাকরিপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলের।
জ্যেষ্ঠ সদস্যের দায়িত্বে চলছে কার্যক্রম
চেয়ারম্যানের পদ শূন্য থাকায় কমিশনের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় জ্যেষ্ঠ সদস্য মো. সুজায়েত উল্যা দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দায়িত্বে পিএসসির চলমান পরীক্ষা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং অন্যান্য রুটিন কাজ অব্যাহত রয়েছে।
পিএসসির কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের পদ শূন্য থাকলেও দৈনন্দিন কার্যক্রমে তাৎক্ষণিক কোনো বড় ধরনের ব্যাঘাত তৈরি হয়নি।
৫০তম বিসিএসের ভাইভা চলছে
নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের অপেক্ষার মধ্যেই ৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা চলছে। এ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
৫০তম বিসিএসে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে মোট ২ হাজার ১৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ক্যাডার পদ রয়েছে ১ হাজার ৭৫৫টি।
পিএসসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে।
৫১তম বিসিএসের প্রস্তুতিও অব্যাহত
চেয়ারম্যানের পদ শূন্য থাকলেও পরবর্তী বিসিএসের প্রস্তুতি থেমে নেই। ৫১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ সালের নভেম্বরের দিকে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এ পরীক্ষায় মোট কতটি পদ থাকবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছ থেকে পদসংখ্যার চাহিদা সংগ্রহ ও সমন্বয়ের কাজ সম্পন্ন করার প্রয়োজন রয়েছে।
পিএসসির সংস্কার পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বিসিএস পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে বিজ্ঞপ্তি থেকে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের সময় এক বছরের মধ্যে সীমিত রাখা।
দ্রুত চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রত্যাশা
পিএসসি দেশের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনা এবং যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগের জন্য সুপারিশ করার ক্ষেত্রে কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তাই চেয়ারম্যানের পদ দীর্ঘ সময় শূন্য থাকলে কমিশনের নীতিনির্ধারণী ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও বর্তমানে রুটিন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে, নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়টি চাকরিপ্রার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ এবং ৫১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি নির্ধারিত সময়ে প্রকাশের বিষয়টি এখন পিএসসির সামনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মোবাশ্বের মোনেমের পদত্যাগ
অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম ২০২৪ সালের অক্টোবরে পিএসসি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে গণঅভ্যুত্থানের পর তৎকালীন চেয়ারম্যান ও কমিশনের সদস্যরা পদত্যাগ করেছিলেন।
নতুন কমিশন গঠনের পর মোবাশ্বের মোনেমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিসিএসসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
গত ১৮ আগস্ট তিনি চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতা এবং শিক্ষকতায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা সামনে এসেছে।
পদত্যাগের পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপ ছিল—এমন আলোচনা থাকলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে শারীরিক অসুস্থতা ও শিক্ষকতায় ফেরার বিষয়টিই তাঁর পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চাকরিপ্রার্থীদের নজর নতুন চেয়ারম্যানের দিকে
বর্তমানে পিএসসির কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চললেও নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়টি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল, ৫১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি এবং ভবিষ্যতের নিয়োগ পরীক্ষাগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে কমিশনের নেতৃত্বে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর পিএসসির চলমান সংস্কার ও পরীক্ষার সময় কমিয়ে আনার পরিকল্পনা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।