কুমিল্লায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘিরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০
কুমিল্লা প্রতিনিধি॥
কুমিল্লার লালমাইয়ে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলের দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার বাগমারা রেলগেট ও আশপাশের এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় নেতাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই কুমিল্লা-১০ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সমর্থকদের সঙ্গে কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হয়। লালমাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদ করিম ও সাধারণ সম্পাদক ইউছুফ আলী মীর পিন্টু মনিরুল হক চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। দুই পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিও পৃথকভাবে পালন করে আসছিল।
মঙ্গলবার বিকেলে লালমাই উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে বাগমারা এলাকায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে উপজেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক শাহজাহানসহ কয়েকজন নেতাকর্মীকে বাগমারা রেলগেট এলাকায় বাধা দেওয়া হয়। পরে সেখানে হামলার ঘটনা ঘটলে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা জড়ো হন এবং পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
পরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শেষে যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী বাগমারা বাইপাস সড়কসংলগ্ন জেলা ওলামা দলের সাবেক সদস্যসচিব মাওলানা জাকির হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। জাকির হোসেন মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এ অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপি সমর্থিত পক্ষের আহতদের মধ্যে মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক শাহজাহান, কর্মী মনির হোসেন, শ্রমিক দল নেতা মো. আলী, যুবদল কর্মী মোশারফ ও মোহাম্মদ আলী রয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্য পক্ষের আহতদের মধ্যে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন ও যুবদল নেতা জামালসহ কয়েকজন রয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
লালমাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউছুফ আলী মীর পিন্টু অভিযোগ করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সমর্থকেরা হামলা চালিয়েছেন। পরে তাদের নেতাকর্মীরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, সংঘর্ষে কতজন আহত হয়েছেন, তা পুলিশ নিশ্চিতভাবে জানে না। তিনি বলেন, ঘটনার আগে থেকেই বাগমারা বাজারে পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
New York Voice Bangla