বিপিএল দুর্নীতি তদন্তে বড় পদক্ষেপ, সাবেক পরিচালকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে বিসিবির
ইফতিকিন আহমেদ ||
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসর ঘিরে দুর্নীতি ও ম্যাচ ফিক্সিং-সংক্রান্ত অভিযোগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক এক পরিচালকসহ তিনজনকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোডের একাধিক ধারা ভঙ্গের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক চার্জ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের (BCBIU) তদন্তের ভিত্তিতে মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্রিকেট বোর্ড। অভিযুক্তরা হলেন—বিসিবির সাবেক পরিচালক ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মুখলেসুর রহমান (শামীম), সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার জাকির হোসেন এবং বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর ও অডিট কমিটির সাবেক সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলাম সানি।
শামীমের বিরুদ্ধে চার অভিযোগ
মুহাম্মদ মুখলেসুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি—চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিপিএলের ম্যাচের ফল, অগ্রগতি বা পরিচালনায় অনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তার করা বা ম্যাচ ফিক্সিংয়ের চেষ্টা, অন্য কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত বা সহযোগিতা করা, দুর্নীতির কোনো প্রস্তাব বা যোগাযোগ যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে না জানানো এবং তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ বা তথ্য গোপন, মুছে ফেলা বা ধ্বংস করে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ।
শামীম ২০২৫–২৬ মেয়াদে বিসিবির পরিচালক এবং অডিট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফিক্সিং-সংক্রান্ত অভিযোগ সামনে আসার পর তিনি আগেই অডিট কমিটি ও পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
জাকির ও সানির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ
সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ম্যাচের ফল বা অগ্রগতিতে অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা, দুর্নীতিতে অংশগ্রহণে অন্যদের উৎসাহিত বা সহযোগিতা করা এবং বিসিবির দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে যথাযথ কারণ ছাড়া সহযোগিতা না করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, রাকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার কোনো প্রস্তাব বা আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তা যথাসময়ে দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তাকে না জানানোর পাশাপাশি তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগ
বিসিবি জানিয়েছে, তিনজনকেই সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া চলমান। চার্জ নোটিশ পাওয়ার পর অভিযুক্তদের নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময় দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই সময়সীমা ১৪ বা ১৫ দিন হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বিসিবির নোটিশের সময় গণনার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
তাই এ পর্যায়ে তিনজনকে ফিক্সিংয়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি হিসেবে নয়, অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাদের জবাব ও পরবর্তী শৃঙ্খলাবিষয়ক প্রক্রিয়ার ফলাফলের ওপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
বিসিবির তদন্তে নতুন অধ্যায়
বিপিএলের ১২তম আসর ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ এই তিনজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হলো। এর ফলে বিপিএলের দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থাপনা এবং টুর্নামেন্টের স্বচ্ছতা নিয়ে বিসিবির চলমান তদন্ত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তবে অভিযোগ আনা এবং অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে অভিযুক্তদের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট শৃঙ্খলাবিষয়ক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।