মাত্র পাঁচ মাসেই ইতি বাদশাহ–ঈশার দাম্পত্যে: গোপন বিয়ে থেকে বিচ্ছেদ, যে গল্পে ছিল জল্পনা ও রহস্য
তাহিনা হোসেন ||
মাত্র পাঁচ মাস। সময়ের হিসাবে খুব বেশি নয়। অথচ এই অল্প সময়েই ভারতীয় র্যাপার বাদশাহ ও পাঞ্জাবি অভিনেত্রী ইশা রিখির সম্পর্ক ঘিরে তৈরি হয়েছে একের পর এক আলোচনার ঢেউ—গোপন বিয়ের খবর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্কের স্বীকৃতি, রহস্যময় পোস্ট এবং শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের ঘোষণা।
৩১ আগস্ট রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একই ধরনের বিবৃতিতে বাদশাহ ও ইশা জানান, তারা পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আলাদা পথে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দুজনই ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধ করেছেন এবং জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এটিই তাদের একমাত্র বক্তব্য।
চার বছরের সম্পর্কের পর চুপিসারে বিয়ে
বাদশাহ ও ইশা রিখির সম্পর্ক দীর্ঘদিনই ছিল অনেকটা আড়ালে। বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের দিকে এক বন্ধুর পার্টিতে তাদের পরিচয় হয় এবং পরে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের আগে তারা প্রায় চার বছর সম্পর্কে ছিলেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৩ সালে তাদের বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও বাদশাহ তখন তা অস্বীকার করেছিলেন। পরে ২০২৬ সালের মার্চে ইশার মা পুনম রিখি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করলে বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। ছবিতে বাদশাহ ও ইশাকে ঐতিহ্যবাহী বিয়ের পোশাকে এবং বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে দেখা যায়।
প্রাথমিকভাবে দুজনের কেউই প্রকাশ্যে বিয়ের ঘোষণা দেননি। তবে পরবর্তী সময়ে ইশা নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি প্রশ্নোত্তর পর্বে জানান যে তিনি বিবাহিত।
জুনে স্বীকৃতি, জুলাইয়ে রহস্যময় পোস্ট
বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পরও দাম্পত্য জীবন নিয়ে দুজনই বেশির ভাগ সময় নীরব ছিলেন। জুনে ইশা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কিন্তু এর পরের মাসেই তার কয়েকটি পোস্ট ঘিরে নতুন করে শুরু হয় আলোচনা।
২৬ জুলাই ইশা বাদশাহর সঙ্গে নিজের ছবি ও ভিডিও নিয়ে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, “Every storm is a lesson. Every prayer is hope”—এর সঙ্গে হৃদয়ভাঙা ও প্রার্থনার ইমোজিও ছিল। এরপর তিনি আরও একটি পোস্টে এমন কিছু ব্যক্তিগত সংগ্রামের কথা লেখেন, যা অনলাইনে অনেকের নজর কাড়ে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওই পোস্টগুলোতে ইশা সরাসরি বাদশাহর নাম উল্লেখ করে কোনো অভিযোগ করেননি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ব্যাখ্যা ও জল্পনা তৈরি হলেও এগুলোকে বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে নিশ্চিতভাবে উপস্থাপন করার মতো প্রমাণ প্রকাশ্যে নেই।
শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের ঘোষণা
এরপর ৩১ আগস্ট রাতে বাদশাহ ও ইশা প্রায় একই ভাষায় নিজেদের Instagram Stories-এ বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন।
বিবৃতিতে তারা জানান, দুজন “পারস্পরিক সম্মানের” ভিত্তিতে আলাদা পথে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা সবাইকে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান করার অনুরোধ করেন এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে নতুন কোনো জল্পনা বা অনুমান না করার আহ্বান জানান।
তাদের বিবৃতিতে বিচ্ছেদের নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। ফলে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব আলোচনা চলছে, সেগুলো এখনো মূলত অনুমাননির্ভর।
বাদশাহর দ্বিতীয় দাম্পত্যেরও সমাপ্তি
ইশা রিখির সঙ্গে বিয়েটি ছিল বাদশাহর দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে তিনি জ্যাসমিন মাসিহকে বিয়ে করেছিলেন। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে এবং ২০২০ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়।
ইশার সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের পর ২০২৬ সালের মার্চে ব্যক্তিগত পরিসরে বিয়ে এবং মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে বিচ্ছেদের ঘোষণা—সব মিলিয়ে বাদশাহ ও ইশার সম্পর্কের গল্প এখন ভারতীয় বিনোদন জগতের আলোচিত বিচ্ছেদগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
তবে দুজনের পক্ষ থেকেই যেহেতু বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি, তাই ভবিষ্যতে নতুন কোনো নির্ভরযোগ্য বক্তব্য না আসা পর্যন্ত এ নিয়ে ছড়ানো বিভিন্ন দাবি ও জল্পনাকে সতর্কতার সঙ্গে দেখাই যুক্তিযুক্ত।