অনলাইন, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
কৃষ্ণসাগরে ড্রোন হামলায় দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, একটি ডুবেছে; নিখোঁজ ১১ নাবিক কিয়েভে পাঁচ রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, জ্বালানি যুদ্ধবিরতি নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা চীনের মেমোরি চিপে নতুন অগ্রগতি, চাপে মার্কিন ও এশীয় প্রযুক্তি শেয়ার অসদাচরণের অভিযোগে গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েলকে পদত্যাগের নির্দেশ পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, প্রথম ভোট ২১ জানুয়ারি মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে চীনের সঙ্গে ৩৩৫.৭৮ মিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩.২ শতাংশে নামাল আইএমএফ, মূল্যস্ফীতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে হারিকেন সাইমন ও ঝড় র‍্যাচেলের তাণ্ডব, নিহত অন্তত ৫ যুক্তরাষ্ট্রের জেএফকে বিমানবন্দরে যুবলীগ নেতাদের হেনস্তার শিকার ড. মুহাম্মদ ইউনূস, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ হারিয়ে যেতে বসা ঘোড়ার গাড়িতে ঘোরে সংসারের চাকা দূর্গাপূজায় টানা ৮দিন বন্ধ থাকবে বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বিএনপি সরকার বারবার ন্যারেটিভ তৈরি করার চেষ্টা করছে: গোলাম পরওয়ার যবিপ্রবিতে নজরকাড়া ‘লুঙ্গি প্যারেড’ নওগাঁয় বিয়েতে পরিবারের অসম্মতি, ঘর থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার দুর্গাপূজা ঘিরে নোয়াখালী'র কোম্পানীগঞ্জে নিরাপত্তা জোরদারসহ পৌরসভা জামায়াত আমীরের ১৪ দফা দাবি
হোম › আন্তর্জাতিক › মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান, দিল্লির নজর এখন ঢাকার দিকে

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান, দিল্লির নজর এখন ঢাকার দিকে

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০:২৭ এএম, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ 52
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান, দিল্লির নজর এখন ঢাকার দিকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক||

বাংলাদেশের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ভারতের কূটনৈতিক মহলে নজরদারি বাড়ছে। দিল্লি সরাসরি বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদানের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো অবস্থান না নিলেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো পরিবর্তন তারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।


ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ভারতের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন সব উন্নয়ন তারা নিয়মিত অনুসরণ করে এবং নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। বাংলাদেশের সম্ভাব্য মক্কা চুক্তিতে যোগদানের প্রসঙ্গেই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল।


কী এই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি?


সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান চলতি আগস্টে মক্কায় Makkah Joint Defence Agreement-এ সই করে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো—এক সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ কারণে চুক্তিটিকে অনেক সময় ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।


তবে মক্কা চুক্তি ন্যাটোর মতো পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট—এমনটি এখনই বলা যাচ্ছে না। সংকটের সময় সদস্যরা ঠিক কী ধরনের সামরিক সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবে, সেই কাঠামোর অনেক বিষয় এখনো পরিষ্কার নয়।


বাংলাদেশের অবস্থান কী?


ঢাকা এখনো চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এর আগে জানিয়েছিলেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কোনো নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি হলে বাংলাদেশ সেটিতে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করতেই পারে।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে আরও স্পষ্ট করে বলেন, চুক্তির বর্তমান সদস্যরা বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করলে ঢাকা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। অর্থাৎ এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চূড়ান্তভাবে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।


পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, চুক্তিটি ভবিষ্যতে এমন দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত থাকতে পারে যারা এর যৌথ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার অঙ্গীকারে আগ্রহী। কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের আবেদন করলে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা করে তা বিবেচনা করা হবে।


কেন বিষয়টি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?


বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত এই প্রতিরক্ষা কাঠামোর অংশ হয়, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণে এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে পাকিস্তান এই জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়ায় বিষয়টি ভারতের কৌশলগত হিসাবের মধ্যে চলে এসেছে।


ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কও বর্তমানে একাধিক ইস্যুতে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক বিষয় রয়েছে। এমন সময়ে পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ঘনিষ্ঠতা দিল্লির জন্য আলাদা গুরুত্ব বহন করছে।


তবে ভারতের বক্তব্যে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি হুমকি বা আপত্তির ঘোষণা নেই। বরং দিল্লির বার্তা হলো—বাংলাদেশের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তটি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, সেটি তারা পর্যবেক্ষণ করছে।


ঢাকার সামনে বড় প্রশ্ন


বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি শুধু সামরিক নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যের বিষয়ও জড়িত।


বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ভারসাম্য রেখে চলার চেষ্টা করেছে। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ঢাকার আলাদা আলাদা অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। একটি আনুষ্ঠানিক সামরিক প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিলে সেই ভারসাম্য বজায় রাখা তুলনামূলক কঠিন হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।


অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী, রেমিট্যান্স এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকায় সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়টি ঢাকার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।


এখন কী হবে?


এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বর্তমান তিন সদস্য বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য হওয়ার প্রস্তাব দেয় কি না এবং দিলে ঢাকা কী সিদ্ধান্ত নেয়।


ভারত ইতোমধ্যে বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে। ফলে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত শুধু ঢাকা–রিয়াদ বা ঢাকা–আঙ্কারা সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর প্রভাব ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর কৌশলগত সমীকরণেও পড়তে পারে।


তবে এখনই বাংলাদেশ কোনো সামরিক জোটে যোগ দিয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি; বিষয়টি মূলত সম্ভাব্য সদস্যপদ নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা ও পর্যবেক্ষণের পর্যায়ে রয়েছে।