সাইফ আলী খানকে ছুরিকাঘাত: দোষ স্বীকারে রাজি বাংলাদেশি অভিযুক্ত, চাইলেন কম সাজা
বিনোদন ডেস্ক ||
বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খানের ওপর হামলার মামলায় নতুন মোড় এসেছে। মুম্বাইয়ের একটি সেশনস কোর্টে বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম দোষ স্বীকার করতে ইচ্ছুক জানিয়ে আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করে সাজা কমানোর আবেদন করেছেন তিনি।
তবে আদালত এখনো তার দোষ স্বীকারের আবেদন গ্রহণ করে চূড়ান্ত রায় দেননি। প্রসিকিউশনের বক্তব্য জানতে চেয়েছে আদালত এবং মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১১ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগের অবস্থান থেকে সরে এলেন অভিযুক্ত
৩১ বছর বয়সী শরীফুল ইসলামকে সাইফ আলী খানের বান্দ্রার বাসভবনে ঢুকে তাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। চলতি বছরের ১৪ আগস্ট মুম্বাইয়ের অতিরিক্ত সেশনস জজ জি পি দেশমুখ মামলায় অভিযোগ গঠন করেন।
অভিযোগ গঠনের সময় শরীফুল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন। কিন্তু মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি অবস্থান পরিবর্তন করে আদালতে দোষ স্বীকার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তার আইনজীবী ভিপুল দুশিং জানিয়েছেন, শরীফুল আদালতের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে লঘু সাজা দেওয়ার আবেদন করেছেন।
কী অভিযোগ রয়েছে শরীফুলের বিরুদ্ধে?
মামলায় শরীফুলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর অধীনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে ডাকাতি বা ছিনতাই, গুরুতর আঘাত এবং বাড়িতে অনধিকার প্রবেশসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ ও অবস্থানের অভিযোগে Foreigners Act এবং Passport (Entry into India) Rules-এর সংশ্লিষ্ট ধারাতেও মামলা করা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে কয়েকটির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ঘটে আলোচিত হামলা
মামলাটি ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারির ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। ওই রাতে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের ১২ তলার বাসায় একজন অনুপ্রবেশকারী সাইফ আলী খানকে ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ।
হামলায় অভিনেতা একাধিকবার ছুরিকাহত হন। পরে তাকে দ্রুত লীলাবতী হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। পাঁচ দিন চিকিৎসার পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশের ২০২৫ সালের চার্জশিটে সাইফ আলী খানের বক্তব্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সেখানে তিনি হামলার সময় গুরুতর আহত হওয়ার কথা জানান।
এখন কী হবে?
শরীফুলের দোষ স্বীকারের আবেদন গ্রহণ করা হবে কি না, সেটি এখনো আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়। আদালত প্রথমে প্রসিকিউশনের বক্তব্য শুনবে। এরপর তার আবেদন নিয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমান পর্যায়ে শরীফুলের দোষ স্বীকারের আবেদনকে আদালতের চূড়ান্ত দোষী সাব্যস্ত করার রায় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। আদালত আবেদন গ্রহণ করে দোষ স্বীকারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে তবেই মামলাটি বিচারের পরবর্তী পর্যায়ে যাবে। পরবর্তী শুনানি ১১ সেপ্টেম্বর।