মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা বাড়াতে সংসদে নতুন বিল
নিজস্ব প্রতিবেদক॥
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল–২০২৬ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।
বিলে কমিশনকে ফৌজদারি তদন্ত কর্মকর্তার মতো কিছু ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার এবং কোনো কোনো স্থাপনা পূর্ব নোটিশ ছাড়াই পরিদর্শনের সুযোগ রাখার কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগেও কমিশনের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। পরে এটি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন বাতিল হয়ে নতুন আইনি কাঠামো চালু হবে। সরকারের বক্তব্য, নতুন কাঠামোর মাধ্যমে কমিশনকে আরও কার্যকর ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
তবে বিলটি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পর্যবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে কমিশনের ক্ষমতা কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা নিয়ে ভবিষ্যতে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এখন বিলটি সংসদীয় কমিটির যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। কমিটির সুপারিশের পরই এর পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া এগোবে।