নেত্রকোণায় বিপুল পরিমাণ চোরাই কম্বলসহ আটক ২ চোরাকারবারি
মামুন রণবীর,
নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি॥
নেত্রকোণার পূর্বধলায় চোরাচালানের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কম্বলসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় চোরাচালানের কাজে ব্যবহার করা একটি কাভার্ডভ্যানও জব্দ করা হয়। পুলিশ জানায়, জব্দকৃত ৭৫০টি ভারতীয় কম্বলের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৮ লাখ টাকা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নেত্রকোণা জেলা পুলিশ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। পুলিশ জানায়, আজ শনিবার ভোরে পূর্বধলা থানাধীন জালশুকা এলাকার জমজম ফিলিং স্টেশনের সামনে নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এক অভিযান পরিচালিত হয়। এই অভিযানে এসব কম্বল জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, জেলা গোয়েন্দা দপ্তরে পুলিশের (ডিবি-পশ্চিম) এসআই মো. আব্দুল জলিল এবং এসআই ইমন পালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ভোর থেকেই মহাসড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছিল। ভোর ৫টার দিকে ‘অশোক লেল্যান্ড’ ব্র্যান্ডের একটি পুরোনো হলুদ ও নীল রঙের কাভার্ডভ্যানকে থামার সংকেত দেয় পুলিশ। কিন্তু চালক সংকেত তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া গতিতে গাড়িটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত অফিসার ও পুলিশ ফোর্সের সহায়তায় ধাওয়া করে কাভার্ডভ্যানটি আটক করতে সক্ষম হয় অভিযান পরিচালনাকারী দল।
পুলিশ হেফাজতে নেয়ার পর তল্লাশি চালিয়ে গাড়ির ভেতর থেকে ৭৫০ পিস ভারতীয় কম্বল উদ্ধার করা হয়। এসময় আটক করা হয় দুজনকে। তারা হলেন- গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বেরাইদের চালা এলাকার মৃত হযরত আলীর ছেলে মো. সুরুজ মিয়া (৪২) এবং ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা কালীবাড়ী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মামুনুর রশিদ (২০)। মামুনুর রশিদ বর্তমানে শেরপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের তালুকদার বাড়িতে বসবাস করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাচালান চক্রের আরেক সদস্য, ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থানার কলসিন্দুর এলাকার মোশাহেব (৪০) পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
নেত্রকোণা জেলা পুলিশ জানায়, জব্দকৃত কম্বল ও কাভার্ডভ্যানটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। গ্রেফতারকৃত দুই আসামি ও পলাতক আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় চোরাচালান আইনে মামলা করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটককৃতদের নেত্রকোণা জেলা আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণ করে।