Columbus, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল, আ.লীগ নেতার বাড়িতে ভূরিভোজ; ওসি প্রত্যাহার ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে প্রথম ভাষণ নেত্রকোণায় বিপুল পরিমাণ চোরাই কম্বলসহ আটক ২ চোরাকারবারি দুর্গাপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মালিকবিহীন ৪০ বোতল বিদেশী মদ জব্দ পুলিশের সামনেই বিক্ষুব্ধ জনতার তাণ্ডব, অভিযুক্তের বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও ক্ষোভ নিষিদ্ধ সংগঠনের সহিংস তৎপরতা—রাষ্ট্রের সক্ষমতা কোথায়? অপ্রতিমের মৃত্যুর আগে ফেসবুকে পোস্ট, আটকের আগে আনাসের সেই বার্তা ঘিরে প্রশ্ন ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে প্রাণ গেল নওগাঁ সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলীর শ্রীমঙ্গলে ঘুমাতে গিয়ে খাটের নিচে ১৬ ফুটের বিশাল অজগর; অতঃপর উদ্ধার করাচির ডিজিটাল স্বাস্থ্য সম্মেলনে আন্তর্জাতিক বক্তা তানহা তাবাসসুম ১৯তম বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬ পার্ক প্লাজা ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজ হোটেল লন্ডনে ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বলিহার রাজবাড়ী ও পাহাড়পুর বিহার পরিদর্শনে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার নওগাঁয় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে নারী বিক্রেতাসহ ৯জনকে গ্রেপ্তার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান নওগাঁয় ৩৬ লাখ টাকায় মাদরাসায় নিয়োগ পেলেন ৪ জন; বোর্ডে ছিলেন না সভাপতি
হোম বাংলাদেশ নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল, আ.লীগ নেতার বাড়িতে ভূরিভোজ; ওসি প্রত্যাহার

নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল, আ.লীগ নেতার বাড়িতে ভূরিভোজ; ওসি প্রত্যাহার

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৩:৩৯ এএম, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 16
নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল, আ.লীগ নেতার বাড়িতে ভূরিভোজ; ওসি প্রত্যাহার

NVB News | নোয়াখালী প্রতিনিধি


নোয়াখালীর সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিম সরকারকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিলের ঘটনায় যথাযথ ভূমিকা পালন না করার অভিযোগ ওঠার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ-সমর্থিত এক ব্যক্তির বাড়িতে আয়োজিত ভূরিভোজে অংশ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।


রোববার সকালে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার ওসি আবদুর রহিম সরকারকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁর স্থলে সেনবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের বটতলা বাজার এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল করেন। নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের এমন প্রকাশ্য মিছিলের ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।


ওই ঘটনার পর সেনবাগ থানার ওসির ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।


এর পাশাপাশি একই উপজেলার বাতানিয়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শাহজাহান খোকনের বাড়িতে আয়োজিত একটি ভূরিভোজে ওসি আবদুর রহিম সরকার অংশ নিয়েছেন—এমন অভিযোগও সামনে আসে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হলে শেষ পর্যন্ত তাঁকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।


তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ওসির বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত অনিয়মের সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার জানিয়েছেন, একজনের বাড়িতে গিয়ে দাওয়াত খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওসি আবদুর রহিম সরকারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।


অন্যদিকে, বটতলা বাজার এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিলের ঘটনায় সেনবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।


সেনবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলন জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যায় ওসি আবদুর রহিম সরকারকে প্রত্যাহার করা হয়। তবে ঠিক কী কারণে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না বলে জানিয়েছেন।


নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন


রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় একটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে মিছিল করার সুযোগ পেল কীভাবে—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি থানার আওতাধীন এলাকায় এমন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।


একই সঙ্গে একজন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাড়িতে ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিযোগ সত্য কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে মানুষের আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। একইভাবে, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই কোনো কর্মকর্তাকে রাজনৈতিকভাবে দায়ী করাও সমীচীন নয়।


তদন্তেই পরিষ্কার হবে প্রকৃত ঘটনা


সেনবাগের এই ঘটনায় এখন দুটি বিষয় বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে—নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিল এবং সেই সময় থানার ওসির ভূমিকা; পাশাপাশি আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ব্যক্তির বাড়িতে ওসির দাওয়াতে অংশ নেওয়ার অভিযোগ।


পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে, ওসির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রকৃত ভিত্তি কী এবং তাঁর প্রত্যাহারের সঙ্গে কোন বিষয়টি মূলত বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।


তবে ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে যে প্রশ্ন তৈরি করেছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে না পারে এবং প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ যেন তৈরি না হয়—এ জন্য স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।


সেনবাগের ঘটনাটিতে এখন সবার নজর পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে। তদন্তে কী উঠে আসে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই নির্ধারণ করবে এই ঘটনায় প্রকৃত দায় কোথায় ছিল।