Columbus | ২৩ আগস্ট, ২০২৬ | ৭ ভাদ্র, ১৪৩৩
সর্বশেষ খবর
বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল, দেওয়া হলো গার্ড অব অনার শেখ হাসিনা ইস্যুতে নয়াদিল্লির পরীক্ষা: দ্য স্টেটসম্যানের সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ প্রশাসনিক কারণে তেজগাঁও ও পল্টন মডেল থানার দুই ওসি প্রত্যাহার প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য: সফর হতে হবে সমতা, মর্যাদা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে জহির উদ্দিন স্বপন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিমান থেকে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল: নতুন মুখ ৫, কে পেলেন কোন মন্ত্রণালয়? দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা–চট্টগ্রাম লংমার্চ, প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পারস্পরিক আস্থা তৈরি হলেই ভারত সফর, তাড়াহুড়ো নেই: হুমায়ুন কবির সুখী-সমৃদ্ধ একটি নতুন দেশ গড়ে উঠবে, প্রত্যাশা ফখরুলের কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের ৯২তম জন্মদিন আজ তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে উত্তাপ, বিক্ষোভের প্রস্তুতিতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ? ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট, সংসদে কাল লড়াই ঢাকার চাপে অবস্থান বদলাচ্ছে ভারত, দুই দেশের সম্পর্ক সন্ধিক্ষণে কলকাতায় ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু, দমকল সদর দপ্তরের পাশের হোটেলেই ছিল না অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা
হোম আন্তর্জাতিক শেখ হাসিনা ইস্যুতে নয়াদিল্লির পরীক্ষা: দ্য স্টেটসম্যানের সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ

শেখ হাসিনা ইস্যুতে নয়াদিল্লির পরীক্ষা: দ্য স্টেটসম্যানের সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০১:৩৪ এএম, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ 34
শেখ হাসিনা ইস্যুতে নয়াদিল্লির পরীক্ষা: দ্য স্টেটসম্যানের সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ

নিউইয়র্ক ভয়েস বাংলা ডেস্ক:

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ভারতের অবস্থান এখন ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যান-এর ২৩ আগস্টের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রশ্নটি শুধু দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয় নয়; এটি ভারতের কাছে আইন ও কূটনীতির সীমারেখা কতটা স্পষ্ট রাখা সম্ভব, তারও পরীক্ষা।


বাংলাদেশ শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে অনুপস্থিতিতে গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। ফলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সামনে বিষয়টি এখন সাধারণ কোনো প্রত্যর্পণ অনুরোধের পর্যায়ে নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিচারপ্রক্রিয়া, আসামির অনুপস্থিতিতে দেওয়া রায় এবং মৃত্যুদণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন।


দ্য স্টেটসম্যানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণের আইনি কাঠামো তৈরি করলেও এর অর্থ এই নয় যে অনুরোধ পাওয়া মাত্রই ভারতকে কাউকে হস্তান্তর করতে হবে। অনুরোধের পেছনে থাকা অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়ার মান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৌলিক অধিকার—সবকিছুই ভারতকে বিবেচনা করতে হবে।


এখানেই শেখ হাসিনা ইস্যুটি নয়াদিল্লির জন্য জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে বাংলাদেশ তার সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বিচারের মুখোমুখি করতে প্রত্যর্পণ চাইছে। অন্যদিকে ভারতকে দেখতে হচ্ছে, যে বিচার ও দণ্ডের ভিত্তিতে প্রত্যর্পণ চাওয়া হচ্ছে, সেটি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ন্যায়বিচারের মানদণ্ড পূরণ করছে কি না।


বিশেষ করে অনুপস্থিতিতে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বিষয়টিকে আরও সংবেদনশীল করেছে। কোনো ব্যক্তিকে তার অনুপস্থিতিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে—এই বিষয়টি একাই ভারতের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা তৈরি করতে পারে। যদি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়, তাহলে তিনি সেখানে কার্যকরভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন কি না, আইনজীবীর মাধ্যমে নিজের মামলা পরিচালনা করতে পারবেন কি না এবং বিচারপ্রক্রিয়া মৌলিক ন্যায়বিচারের মানদণ্ড মেনে চলবে কি না—এসব প্রশ্ন সামনে আসবে।


মৃত্যুদণ্ডও ভারতের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দ্য স্টেটসম্যানের সম্পাদকীয়তে ইঙ্গিত করা হয়েছে, বাংলাদেশ যদি প্রত্যর্পণের পর শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে বিচার ও দণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা দিতে পারে, তাহলে ভারতের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


তবে বিষয়টি শুধু আইনি নয়, বড় ধরনের কূটনৈতিক প্রশ্নও তৈরি করেছে। ভারত দীর্ঘদিন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। তার সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। ফলে তাকে দীর্ঘদিন ভারতে রাখা হলে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। আবার তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠালে ভারতের ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশীদার হওয়ার অভিযোগও উঠতে পারে।


এই দুই ঝুঁকির মাঝখানেই নয়াদিল্লির সামনে মূল চ্যালেঞ্জ—ভারত কি শেখ হাসিনা ইস্যুটিকে রাজনৈতিক সম্পর্কের দৃষ্টিতে দেখবে, নাকি একটি নিরপেক্ষ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে?


দ্য স্টেটসম্যানের সম্পাদকীয়টির মূল বক্তব্য হলো, ভারতের জন্য সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পথ হতে পারে প্রত্যর্পণ অনুরোধটি স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ আইনি প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করা এবং বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে বিচারপ্রক্রিয়া, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ও মৃত্যুদণ্ডসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা চাওয়া।


অর্থাৎ, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করা অথবা অনির্দিষ্টকাল ভারতে রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং ভারতকে এমন একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কও অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং ভারতের নিজস্ব আইনি ও নৈতিক অবস্থানও প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।


এদিকে শেখ হাসিনাকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ইতোমধ্যেই ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছে এবং তার প্রত্যর্পণের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছে। ফলে তার প্রত্যর্পণ এখন দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বৃহত্তর আলোচনার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হয়ে গেছে।


সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনা ইস্যুতে ভারতের সামনে এখন একটি কঠিন ভারসাম্যের পরীক্ষা। বাংলাদেশ চাইছে তার সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ফেরত দিতে; ভারতকে একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, নিজস্ব আইন এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্ন বিবেচনা করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লির প্রতিটি পদক্ষেপ শুধু শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎই নয়, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের পরবর্তী গতিপথেও প্রভাব ফেলতে পারে।


সারকথা: শেখ হাসিনা ইস্যুতে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—বন্ধুত্ব, কূটনীতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতার বাইরে গিয়ে আইন ও ন্যায়বিচারকে কতটা অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব? দ্য স্টেটসম্যানের সম্পাদকীয় সেই প্রশ্নটিকেই নয়াদিল্লির সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবে তুলে ধরেছে।


তথ্যসূত্র: The Statesman —Editorial: “The Hasina case”, 23 August 2026.