সালমান শাহ হত্যা মামলা: ডনকে রিমান্ডে নিতে প্রস্তুত সিআইডি, কাল শুনানি
বিনোদন ডেস্ক ||
ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ আবেদনের ওপর শুনানি আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে হওয়ার কথা রয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে দীর্ঘদিনের আলোচিত এ মামলার তদন্তে ডনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছে তদন্ত সংস্থা।
সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে সিআইডি
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান গত ২০ আগস্ট ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ২৭ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
সিআইডির আবেদনে মামলাটি অত্যন্ত আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ডনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে সহায়তা মিলতে পারে। একই সঙ্গে মামলায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের অবস্থান ও ভূমিকা সম্পর্কেও তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলায় সংশ্লিষ্ট অন্য সহযোগী আসামিদের অবস্থান শনাক্ত এবং তাদের গ্রেপ্তারে অগ্রগতি আনা যেতে পারে। বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে এবং কী কারণে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন—এ বিষয়েও তথ্য জানতে চায় সিআইডি। এসব কারণ দেখিয়েই পুলিশ হেফাজতে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা আদালতের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার
গত ৯ আগস্ট ভোরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিনই আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ১২ আগস্ট তার জামিনের আবেদন করা হলেও তা নাকচ হয়। পরবর্তী সময়েও আদালতে তার জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ডনকে বিমানবন্দরে গ্রেপ্তারের সময় তিনি সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছিল। মামলার আসামিদের বিদেশযাত্রা ঠেকাতে আগে থেকেই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছিল বলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়।
১৯৯৬ সালের মৃত্যু ঘিরে দীর্ঘ তদন্ত
চিত্রনায়ক সালমান শাহ—চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন—১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় মৃত অবস্থায় উদ্ধার হন। তার মৃত্যুর পর প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে বিতর্ক ও আইনি প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
সিআইডি, বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বিভিন্ন সময়ে ঘটনাটি তদন্ত করে। আগের কয়েকটি তদন্তে হত্যার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং আত্মহত্যার সিদ্ধান্তের কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল। তবে সালমান শাহর পরিবার এসব সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হয়ে পুনঃতদন্ত ও হত্যার অভিযোগের তদন্ত দাবি করে আসছিল।
নতুন করে হত্যা মামলা
সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে রমনা থানায় ১১ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, তার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ আশরাফুল হক ডনের নাম রয়েছে। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা আগের মামলাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দেন। এর পর মামলাটি নতুন করে তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।
তদন্তে কী বেরিয়ে আসবে, নজর আদালতের শুনানিতে
সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রিমান্ড আবেদনের শুনানি হবে এবং ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা রয়েছে। তবে রিমান্ড এখনো আদালত মঞ্জুর করেননি। ফলে আদালতের সিদ্ধান্তের পরই স্পষ্ট হবে ডনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ সিআইডি পাবে কি না।
মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে বলে সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ৩০ আগস্ট মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে। ফলে রিমান্ড শুনানি ও পরবর্তী তদন্ত অগ্রগতি—দুই দিকেই এখন নজর রয়েছে।
সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের প্রেক্ষাপটে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে মামলার অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য সামনে আসে কি না—সেটিই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে আদালতের রিমান্ড আদেশ এবং তদন্তে প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।