স্বৈরাচার ফিরে আসবে বলে ভয় দেখায় সরকার: শফিকুর রহমান
বগুড়া প্রতিনিধি | নিউইয়র্ক ভয়েস বাংলা
তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ জনগণের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বললে সরকার ‘স্বৈরাচার ফিরে আসবে’—এমন ভয়ভীতি দেখায় বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বগুড়া সার্কিট হাউস মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। একাধিক সংবাদমাধ্যম তাঁর বক্তব্যের মূল অংশ একইভাবে প্রকাশ করেছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ বর্তমানে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা সমস্যায় কষ্ট পাচ্ছে। এসব বিষয়ে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে বারবার কথা বলেছে। সংকট সমাধানে টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি দল গঠন করে সরকারকে সহযোগিতা করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে বারবার কথা বলেও যখন সমস্যার সমাধান করা যায়নি, তখন জনগণের দাবি নিয়ে বিরোধী দলকে রাজপথে নামতে হয়েছে। তাঁর ভাষায়, জনগণের অধিকার আদায়ে বিরোধী দলকে ‘চৌকিদার’ ও ‘ভ্যানগার্ড’-এর ভূমিকা পালন করতে হয়। দেশের যেখানেই কোনো অসংগতি দেখা যাবে, সেখানেই তারা কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।
বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গেও কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বগুড়া দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বঞ্চিত। দেশের অন্য এলাকার মতো বগুড়ারও ন্যায্য পাওনা রয়েছে এবং সেই দাবি আদায়ে তিনি কথা বলতে চান।
বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির মালয়েশিয়া ও জাপানের উদাহরণ দেন। তাঁর প্রশ্ন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও বাংলাদেশ কেন প্রত্যাশিত জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি। এ জন্য দীর্ঘদিনের শাসনব্যবস্থা, দুর্নীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বক্তব্যে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী সংস্কারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ওই সময়ের পর জনগণ রাষ্ট্রের আমূল সংস্কার চেয়েছিল। তাঁর দাবি, গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় আসার পর জনগণের দেওয়া সেই রায় ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে না।
তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটের রায় অগ্রাহ্য করার সুযোগ কারও নেই। জনগণ যে পরিবর্তন ও সংস্কার চেয়েছে, তা বাস্তবায়নের দাবিতেই তাঁরা আন্দোলন করছেন।
শফিকুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফল বাস্তবায়ন না করার ঘটনাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, জনগণের ভোটের রায়কে সম্মান না করলে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয় এবং এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
মতবিনিময় সভায় তিনি সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকারও প্রত্যাশা করেন। পাশাপাশি বগুড়ার উন্নয়ন, জনগণের অধিকার এবং দেশের চলমান বিভিন্ন সংকট নিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কথা বলার ঘোষণা দেন।
তবে সরকার সত্যিই ‘স্বৈরাচার ফিরে আসবে’ বলে বিরোধী দলকে ভয় দেখিয়েছে—এটি শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক অভিযোগ। সংবাদে এটিকে প্রতিষ্ঠিত সরকারি বক্তব্য হিসেবে নয়, তাঁর বক্তব্য ও অভিযোগ হিসেবেই উপস্থাপন করা উচিত।