Columbus, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
দুর্নীতি-অনিয়ম প্রমাণ হলে দায়িত্ব ছেড়ে দেব: নুর ল্যাব থেকে বাজারে উদ্ভাবন—বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ; গ্রেপ্তার ৩২ তারেক রহমানের সংবর্ধনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে আগুন—নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব কি রূপ নেবে সংঘাতে? দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত সাময়িক বহিস্কৃত অধ্যক্ষের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ সেনবাগে আবারও বসছে ‘মেধা উৎসব ২০২৬’ মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশাপাশি সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও পাবে সম্মাননা চলন্ত সিএনজি থেকে নবজাতককে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, তরুণী ও চালক আটক মঈন খান ও সালাহউদ্দিন আহমদের সংসদীয় দায়িত্ব বাড়ল বাক্‌স্বাধীনতা যেন শালীনতার সীমা অতিক্রম না করে: প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ১,৪৯২ বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেই চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশি নাগরিক আটক ৫০ সংসদীয় কমিটি গঠন, বিরোধীদের ক্ষোভ র‍্যাব বিলুপ্তির বিল সংসদে পাস, গঠিত হচ্ছে নতুন এসআরবি শ্রীমঙ্গলে সড়ক দুর্ঘটনায় মুখপোড়া হনুমানের মৃত্যু
হোম রাজনীতি তারেক রহমানের সংবর্ধনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে আগুন—নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব কি রূপ নেবে সংঘাতে?

তারেক রহমানের সংবর্ধনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে আগুন—নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব কি রূপ নেবে সংঘাতে?

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০১:২১ এএম, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 50
তারেক রহমানের সংবর্ধনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে আগুন—নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব কি রূপ নেবে সংঘাতে?

মো: নাজমুল হাসান বাবু,

সম্পাদকীয় মতামত॥


বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আসন্ন নিউইয়র্ক সফর যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। বাইরে থেকে এটি একজন সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানানোর ঐতিহাসিক আয়োজন; কিন্তু ভেতরের চিত্রে দেখা যাচ্ছে নেতৃত্ব, কর্তৃত্ব, সাংগঠনিক পরিচয় এবং সংবর্ধনার নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে একাধিক পক্ষের মধ্যে বাড়ছে প্রতিযোগিতা।


২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের ম্যারিয়ট মারকুইজ হোটেলে তারেক রহমানের নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি চলছে। ২১ সেপ্টেম্বর তাঁর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কথা এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সংবর্ধনার প্রস্তুতির কথা একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।


কিন্তু তারেক রহমানের আগমন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সামনে আসছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সংকটের পুরোনো ক্ষত।


একটি সংবর্ধনা, নাকি নেতৃত্বের শক্তি পরীক্ষা?


যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দুর্বলতা দীর্ঘদিনের কমিটি-সংকট। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের পর সংগঠনটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। ফলে কে সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখেন, কার নেতৃত্ব কতটা স্বীকৃত এবং দলীয় কর্মসূচিতে কার কর্তৃত্ব চূড়ান্ত—এসব প্রশ্ন বহুদিন ধরেই ঝুলে আছে।


তারেক রহমানের মতো দলের শীর্ষ নেতা এবং বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের নিউইয়র্ক সফর সেই প্রশ্নগুলোকে এবার আরও বিস্ফোরক করে তুলেছে।


কারণ বিষয়টি এখন আর শুধু একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।


কে মঞ্চে থাকবেন?

কে বক্তব্য দেবেন?

কারা আয়োজক হিসেবে পরিচিত হবেন?

কারা প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি থাকবেন?

কারা নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব দেখাতে পারবেন?


প্রশ্নগুলো যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতার উত্তাপ।


এক পক্ষের বক্তব্য, অন্য পক্ষের পাল্টা বক্তব্য


যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় নেতা-কর্মীদের একটি অংশ মনে করেন, আন্দোলন-সংগ্রামের সময় যারা মাঠে ছিলেন, দলের কঠিন সময়ে যারা পাশে ছিলেন, তারেক রহমানের সংবর্ধনা ও তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে তাদের যথাযথ রাজনৈতিক মূল্যায়ন হওয়া উচিত।


অন্যদিকে আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত নেতাদের বক্তব্য—প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল ও মর্যাদাপূর্ণ করাই এখন মূল লক্ষ্য।


দুই বক্তব্যের মধ্যকার ব্যবধানই তৈরি করছে নতুন উত্তেজনা।


কারণ যখন একটি সংগঠনের আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব কাঠামো দুর্বল থাকে, তখন ব্যক্তি, গ্রুপ এবং প্রভাবের রাজনীতি সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের জায়গা দখল করার ঝুঁকি তৈরি করে।


এখন সেই বাস্তবতাই যেন প্রকাশ্যে আসছে।


চতুর্মুখী প্রতিযোগিতা কোথায় গিয়ে ঠেকবে?


বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ভেতরে অন্তত চার ধরনের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা দেখা যাচ্ছে।


একদিকে রয়েছেন দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতা-কর্মীরা, যারা নিজেদের ত্যাগ ও রাজনৈতিক অবদানের স্বীকৃতি চান।


দ্বিতীয়দিকে রয়েছেন সাবেক নেতৃত্ব ও সাংগঠনিকভাবে পরিচিত নেতারা, যারা মনে করেন ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অভিজ্ঞতা ও ভূমিকা অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই।


তৃতীয়দিকে রয়েছে নতুন প্রজন্ম ও সাম্প্রতিক সময়ে সক্রিয় হয়ে ওঠা নেতা-কর্মীদের একটি অংশ, যারা পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের জায়গা তৈরি করতে চাইছেন।


আর সবকিছুর ওপরে রয়েছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—


ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে?


তারেক রহমানের সংবর্ধনাকে ঘিরে তাই যে প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে, সেটি শুধু একটি দিনের অনুষ্ঠান পরিচালনার প্রতিযোগিতা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের হিসাবও।


কথার লড়াই কি মাঠের সংঘাতে গড়াবে?


এখানেই পরিস্থিতির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক।


অভ্যন্তরীণভাবে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং এক পক্ষের বিরুদ্ধে অন্য পক্ষের নানা বক্তব্য যদি আরও তীব্র হয়, তাহলে রাজনৈতিক উত্তেজনা যে বাড়বে—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।


রাজনীতির মাঠে অনেক সময় বড় সংঘাতের শুরু হয় ছোট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে।


কে আগে মঞ্চে উঠবেন, কার লোকজন কোথায় অবস্থান করবেন, কে প্রবেশাধিকার পাবেন, কার বক্তব্য কতক্ষণ হবে কিংবা কোনো পক্ষের বক্তব্যের জবাব অন্য পক্ষ ঘটনাস্থলেই দেবে কি না—এসব বিষয়ও উত্তেজনার কারণ হতে পারে।


আজ যে বিরোধ কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ, কাল সেটিই যদি মুখোমুখি অবস্থানে গিয়ে দাঁড়ায়, তখন পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে যেতে পারে।


সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা, নিয়ন্ত্রণহীন উত্তেজনা থাকলে ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি কিংবা আরও বড় ধরনের সংঘাতের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।


তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো সংঘর্ষ ঘটেছে—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এটি বর্তমান পরিস্থিতি থেকে তৈরি হওয়া ঝুঁকি ও আশঙ্কার বিশ্লেষণ, নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়।


সবচেয়ে বড় ঝুঁকি—সংঘাত যদি সংবর্ধনার মঞ্চে পৌঁছে যায়


তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর শুধু যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির জন্য নয়, পুরো বাংলাদেশি প্রবাসী কমিউনিটির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজনৈতিক ঘটনা।


সেখানে দেশ-বিদেশের অতিথি, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির উপস্থিতি থাকবে।


এমন একটি অনুষ্ঠানে যদি অভ্যন্তরীণ কোনো বিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসে, তাহলে ক্ষতি শুধু একটি পক্ষের হবে না।


ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো আয়োজনের ভাবমূর্তি।


আর সবচেয়ে বড় কথা, সেই আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।


তাই প্রশ্নটা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—যে সংবর্ধনা হওয়ার কথা ঐক্যের প্রতীক হিসেবে, সেটিই কি শেষ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের প্রকাশ্য মঞ্চে পরিণত হবে?


কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও কি বিপদের ইঙ্গিত বুঝতে পারছে?


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর সফল করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।


এই আহ্বানকে শুধু আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।


কারণ যখন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বিশেষভাবে ঐক্য ও শৃঙ্খলার ওপর জোর দিতে হয়, তখন মাঠের ভেতরে কিছুটা হলেও সমন্বয়হীনতা বা প্রতিযোগিতা থাকার বিষয়টি বোঝা যায়।


প্রশ্ন হচ্ছে—এই আহ্বান কি বাস্তবে সব পক্ষকে একই ছাতার নিচে আনতে পারবে?


নাকি নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে?


কমিটি থাকলে কি পরিস্থিতি অন্যরকম হতো?


এখানে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সংকটটি আবার সামনে আসে।


একটি পূর্ণাঙ্গ ও সর্বজনস্বীকৃত কমিটি থাকলে সাধারণত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটি নির্দিষ্ট কাঠামো থাকে। কে আয়োজন করবে, কার দায়িত্ব কী, কারা প্রতিনিধিত্ব করবে—এসব বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত কার্যকর করা তুলনামূলক সহজ হয়।


কিন্তু দীর্ঘ সময় কমিটি না থাকায় একই সংগঠনের ভেতরে একাধিক ব্যক্তি বা পক্ষ নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ পায়—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।


তারেক রহমানের সফর সেই সমস্যাটিকে যেন আরও দৃশ্যমান করে তুলেছে।


আর এ কারণেই অনেকের প্রশ্ন—


যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকলে কি আজকের এই নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও আয়োজন নিয়ে এতটা অনিশ্চয়তা তৈরি হতো?


তারেক রহমানের সফর—ঐক্যের সুযোগ, নাকি বিভাজনের পরীক্ষা?


বাস্তবতা হলো, তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সামনে একটি বিরাট রাজনৈতিক সুযোগ এনে দিয়েছে।


দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশের সরকারপ্রধান এবং বিএনপির চেয়ারম্যান প্রবাসী নেতা-কর্মীদের সামনে আসছেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি চাইলে নিজেদের শক্তি, ঐক্য এবং সাংগঠনিক সক্ষমতার একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে পারে।


কিন্তু তার জন্য প্রথম শর্ত হলো—ব্যক্তির আগে দল, গ্রুপের আগে সংগঠন এবং নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার আগে রাজনৈতিক শৃঙ্খলা।


সংবর্ধনার মঞ্চে কে কতটা জায়গা পেলেন—তার চেয়ে বড় হওয়া উচিত দলের মর্যাদা।


কে প্রধানমন্ত্রীর কতটা কাছে দাঁড়ালেন—তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত পুরো প্রবাসী বিএনপির ঐক্য।


আর কে ভবিষ্যতে নেতৃত্বে থাকবেন—সেই সিদ্ধান্তও যদি নিতে হয়, সেটি হওয়া উচিত সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে, কোনো অনুষ্ঠানকে শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ বানিয়ে নয়।


শেষ কথা


তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর এখন আর কেবল একটি কূটনৈতিক সফর বা দলীয় কর্মসূচি নয়। এটি হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির জন্য ঐক্য, নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক সক্ষমতার বড় পরীক্ষা।


বর্তমান পরিস্থিতিতে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য যদি থামে, সবাই যদি একই মঞ্চে দাঁড়ায় এবং সংবর্ধনাকে দলীয় শক্তির প্রদর্শন না বানিয়ে জাতীয় ও প্রবাসী মর্যাদার একটি অনুষ্ঠানে পরিণত করতে পারে—তাহলে এই সফর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির জন্য নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।


কিন্তু বিপরীত চিত্র হলে?


যদি নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব বাড়ে, গ্রুপিং তীব্র হয়, এক পক্ষ অন্য পক্ষকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চালায় এবং সেই উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত মাঠে চলে আসে—তাহলে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে।


আর যদি সেই পরিস্থিতি সংবর্ধনার মঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তাহলে সেটি শুধু যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকটের খবর হবে না; সেটি হয়ে উঠবে পুরো প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি বিব্রতকর রাজনৈতিক দৃশ্য।


তাই এখন সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন—


তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি কি এক কাতারে দাঁড়াবে, নাকি দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের সংকট, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও আধিপত্যের লড়াই শেষ পর্যন্ত সংবর্ধনার মঞ্চকেও বিভেদের মঞ্চে পরিণত করবে?


২৫ সেপ্টেম্বরের সংবর্ধনা শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়—এটি এখন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ঐক্যেরও পরীক্ষা।