গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ; গ্রেপ্তার ৩২
ঢাকা প্রতিনিধি | নিউইয়র্ক ভয়েস বাংলা
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুলিশের বাধার মুখে মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে ককটেল বিস্ফোরণ এবং অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধারের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। এ ঘটনায় মিছিলে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গুলশান এলাকায়। পুলিশ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বেলা পৌনে ১২টার দিকে গুলশান-১/গুলশান-৩ এলাকার একটি গলিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ নেতাকর্মী জড়ো হন। পরে তারা দ্রুত মিছিল বের করার চেষ্টা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও মিছিলকারীদের স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিলকারীদের দিক থেকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি ছোড়ে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে পুলিশের ব্যবহৃত গুলির ধরন নিয়ে ‘রাবার বুলেট’ ও ‘ফাঁকা গুলি’—দুই ধরনের বর্ণনা এসেছে; তবে পুলিশি পদক্ষেপের পর মিছিলকারীরা দ্রুত ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
ঘটনাস্থল থেকে প্রথম দফায় আরাফাত (২০) ও আব্দুর রহিম (৪৯) নামে দুজনকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, তাদের কাছ থেকে পাঁচটি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে ঘটনার পর এখানেই শেষ হয়নি পুলিশের অভিযান। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন শনিবার সকালে জানান, গুলশানের ওই মিছিলে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে মোট ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিছিলে অংশ নেওয়া অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযানও চলমান রয়েছে।
প্রশ্ন এখন একটাই—ঝটিকা মিছিলের নেপথ্যে কারা?
ঘটনাটি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একটি ঝটিকা মিছিল হিসেবে শুরু হলেও ককটেল বিস্ফোরণ, বিপুলসংখ্যক মানুষের জমায়েত এবং পরবর্তী গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বিশেষ করে গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তা-সংবেদনশীল এলাকায় কীভাবে ১৫০ থেকে ২০০ জন মানুষ একত্রিত হয়ে মিছিলের চেষ্টা করলেন—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
তবে এই মুহূর্তে মিছিলটির নির্দিষ্ট পরিকল্পনাকারী বা অর্থদাতা কে ছিলেন, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবি বা রাজনৈতিক বক্তব্যকে যাচাই ছাড়া সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও রাজপথে
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে সরকারের অবস্থানও কঠোর। শুক্রবার স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সভা, সমাবেশ, মিছিল বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ নেই; কেউ তা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।
এর মধ্যেই রাজধানীর গুলশানে এমন মিছিল এবং পরবর্তী ৩২ জন গ্রেপ্তারের ঘটনা রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—মিছিলটি অল্প সময় স্থায়ী হলেও এর প্রতিক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে। কারণ এখানে শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয়, ককটেল উদ্ধারের অভিযোগও রয়েছে। এখন তদন্তে বেরিয়ে আসার অপেক্ষা—কারা মিছিলটি সংগঠিত করেছিল, কারা এতে অংশ নিয়েছিল এবং ককটেলগুলো সেখানে কীভাবে এল।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং মিছিলে অংশ নেওয়া অন্যদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
তথ্যসূত্র: ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।