অনলাইন, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
দলীয় লোক দিয়ে দুদক গঠন করে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে: আসিফ মাহমুদ ফ্যাসিস্ট সরকারের ব্যর্থতায় আজ দেশের মানুষ বিদ্যুৎ সমস্যায়: শামা ওবায়েদ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অবসান ছাড়া জ্বালানি সংকট কাটানো কঠিন: রিজভী ভোজ্যতেলে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশ, বছরে চাহিদার ৯০ শতাংশই আসে বিদেশ থেকে আদালতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, বক্তব্যের একপর্যায়ে এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগ, মাদারীপুরে অভিযুক্তের বাড়িতে তালা ডেঙ্গুতে একদিনে রেকর্ড ৯ মৃত্যু, আক্রান্ত ৪৫ হাজার ছাড়িয়েছে রূপপুর প্রকল্পে গভীর রাতে আগুন, সার্ভারসহ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত কমলগঞ্জে দুই খাদ্য প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, দেড় লাখ টাকা জরিমানা ১১০ বছরের পুরনো সিলেট-আখাউড়া রেলপথ ডাবল লাইন করার দাবী এই অঞ্চলের মানুষের নওগাঁয় খেলাধুলার সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল এক কিশোরের নদী পারাপারে ঝুঁকি, অলস পড়ে ৪৯ কোটি টাকার বন্দর: চুনারুঘাটে ‘বাল্লা খোয়াই’ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট নতুন স্থলবন্দরে স্থানান্তরের আকুল দাবি কুলাউড়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন আহতদের নোয়াখালীতে ৯ বছরের মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, শিক্ষক আটক চার দশক পর জাতিসংঘের শীর্ষ মঞ্চে বাংলাদেশ, সভাপতির দায়িত্ব নিলেন খলিলুর রহমান
হোম বাংলাদেশ ১১০ বছরের পুরনো সিলেট-আখাউড়া রেলপথ ডাবল লাইন করার দাবী এই অঞ্চলের মানুষের

১১০ বছরের পুরনো সিলেট-আখাউড়া রেলপথ ডাবল লাইন করার দাবী এই অঞ্চলের মানুষের

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০২:০৪ এএম, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 6
১১০ বছরের পুরনো সিলেট-আখাউড়া রেলপথ ডাবল লাইন করার দাবী এই অঞ্চলের মানুষের

মাহিদুল ইসলাম,

মৌলভীবাজার॥


বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় পাঁচ দশক আগে বৃটিশ শাসনামলে পণ্য পরিবহনের জন্য সিলেট-আখাউড়া রেলপথ স্থাপন করা হয়। সেই থেকে প্রায় একশত দশবছর পেরিয়ে গেলেও এখনও রেলপথে তেমন কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বৃটিশরা যেভাবে রেলপথ তৈরি করে ছিলো ঠিক একই পথে এখনও ধুঁকে ধুঁকে চলছে ট্রেন। সময় যত যাচ্ছে এই রেলপথ ততই ঝুকিপূর্ণ হচ্ছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রায় তিন দশক ধরে এই অঞ্চলের মানুষেরা সিলেট-আখাউড়া রেলপথ ডাবল লাইন করার দাবী জানিয়ে আসলেও বাস্তবায়নের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সরকার সম্প্রতি সময়ে এই রেলপথ ডুয়েলগেজ করার চিন্তা করলেও সাধারণ মানুষেরা ডাবল লাইন করার দাবী জানিয়েছেন।


জানা যায়, বৃটিশ শাসনামলে ১৯১২ থেকে ১৯১৫ সাল পর্যন্ত সিলেট-আখাউড়া রেলপথ নির্মাণ করে পণ্য পরিবহনের চিন্তা করে। তবে একটা সময় বাণিজ্যের পাশাপাশি ট্রেনের যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। সময়ের সাথে সাথে সিলেট অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থায় ট্রেনযাত্রা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। তবে শতবছর পেরিয়ে গেলেও এখানকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেলপথে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও এই অঞ্চলের মানুষেরা তা থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে সিলেট-আখাউড়া ঝুকিপূর্ণ রেলপথ ডাবল লাইনে উন্নীত করার দাবী জানিয়ে আসলেও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জনবল ও ইঞ্জিন সংকটের কারণ দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে একের পার এক লোকাল ট্রেন ও স্টেশন। প্রকৃত রেলসেবা থেকে প্রতিদিন বঞ্চিত হচ্ছেন লাখো মানুষ।



সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেট-আখাউড়া ২৩৯ কিলোমিটার রেললাইন বৃটিশ আমলের তৈরি। ট্রেন চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হলেও বেশিরভাগ জায়গায় রেললাইনের নাট-বল্টু, ফিসপ্লেট ও ক্লিপসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নেই। এগুলো আবার মাঝেমধ্যে চুরি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।অনেক জায়গায় বল্টুর বদলে সুতো দিয়ে বাঁধা হয়েছে।শতবছরের পুরাতন সেতু গুলো অনেক ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। এতে লাইন দুর্বল হয়ে বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একটি মাত্র লাইন হওয়ায় রেল ক্রসিং এর জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। ট্রেনের ইঞ্জিন ও লাইন দূর্বল হওয়ায় পাহাড়ি এলাকায় চলতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এই অঞ্চলের সাধারণ যাত্রীদের একটাই দাবী সিলেট-আখাউড়া রেলপথ ডাবল লাইনে উন্নীত করার।



বাংলাদেশ রেলওয়ে সুত্রে জানা যায়, সিলেট-আখাউড়া রেলপথে ডাবল লাইনের পরিবর্তে এখন ডুয়েলগেজে রুপান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হলে এই পথে একসাথে ভিন্ন মাপের দুটি ট্রেন চলতে পারবে। বিশেষ করে লাইন ডুয়েলগেজ হলে নতুন যেসব ট্রেন যুক্ত হবে এতে দ্রুত গতিতে ট্রেন চলতে পারবে। ডুয়েলগেজ প্রকল্পের জন্য চায়নার সাথে ইতিমধ্যে কথা হয়েছে।




ঢাকা-সিলেট রেলপথের ট্রেন যাত্রীরা বলেন, আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত বেশিরভাগ রেলপথ দূর্বল। প্রতি বছর অনেকগুলো দূর্ঘটনা ঘটে। বৃটিশ আমলের তৈরি রেললাইনে টুকটাক সংস্কার করা হলেও বড় ধরনের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এখন পর্যন্ত। এই পথে ট্রেন যাত্রা নিরবচ্ছিন্ন করতে হলে ডাবল লাইন ছাড়া আর কোন পথ নেই। শুনেছি লাইন ব্রডগেজ করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তবে আমরা চাই ডাবল লাইন করার উদ্যোগ নেওয়া হোক। এতে করে এই অঞ্চলের সমস্যা চিরস্থায়ী সমাধান হবে। এখন সিলেট থেকে ঢাকা যেতে প্রায় ৮ ঘন্টা লাগে। ডাবল লাইন হলে তখন এর অর্ধেক সময় লাগবে।



শমশেরনগর স্টেশনের বাসিন্দা গিলমান আহমেদ বলেন, ব্যবসায়িক কাজে আমরা নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াত করি। তবে ট্রেনের দূর্ভোগের কারণে অনেক ব্যবসায়ী এখন বাসে যাতায়াত করেন। কারন বেশিরভাগ ট্রেন পাহাড়ি এলাকা চলতে পারেনা। রেল ক্রসিং এর জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কোন কারণে ছোট দূর্ঘটনা হলেও একসাথে অনেকগুলো ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় হয়। এসব সমস্যা সমাধানের একটি মাত্র রাস্তা আর এটি হলে সিলেট আখাউড়া রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করা।



এই পথের নিয়মিত ট্রেন যাত্রী ও সচেতন নাগরিক মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকা সিলেট রেলপথের আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ডাবল লাইন করা খুবই জরুরি। এই লাইন ডুয়েলগেজ বা ব্রডগেজ হলে পুরোপুরি সমস্যার সমাধান হবেনা। কারণ ঝুকিপূর্ণ রেলপথে আগের মতোই ঝুঁকি থেকে যাবে। ক্রসিং সমস্যা থেকেই যাবে। লাইন ব্রডগেজ হলে ট্রেনের গতি বাড়ানো হবে তবে পুরোনো সমস্যা থেকেই যাবে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই অঞ্চলের মানুষের দাবি সিলেট-আখাউড়া রেলপথ ডাবল লাইন করার।



কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার রুমান আহমেদ ও শমশেরনগর স্টেশনমাস্টার রজত কুমার রায় বলেন, ডাবল লাইন হবে কিনা তা আমাদের জানা নেই। তবে আমরা শুনেছি আখাউড়া সিলেট রেলপথকে ব্রডগেজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে একসাথে নতুন পুরাতন দুটি ট্রেন চলতে পারবে।



বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিঃ মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মোঃ মাসউদুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, সরকার ইতিমধ্যে সিলেট আখাউড়া রেললাইনকে মিটারগেজ থেকে ডুয়েলগেজে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে চীনের সাথে আলোচনা হয়েছে। এই লাইন ডুয়েলগেজ হলে নতুন ট্রেন সংযোজনের করা হবে। এতে করে এই লাইনে ভিন্ন মাপের দুটি ট্রেন একসাথে চলতে পারবে।