দলীয় লোক দিয়ে দুদক গঠন করে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে: আসিফ মাহমুদ
ঢাকা প্রতিনিধি:
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে যে অনুসন্ধান শুরু করেছে, সেটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি অভিযোগ করেছেন, দলীয় লোকজন দিয়ে দুদক গঠন করে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব অভিযোগের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে তার দায়িত্ব পালনকালে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এ অনুসন্ধানের জন্য উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।
দুদক তার দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত নথিপত্র চেয়েছে। একই সঙ্গে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান, বাতিল ও পদায়নসংক্রান্ত নথিও চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে দুদকের পক্ষ থেকে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। এ বক্তব্যের প্রতিবাদ করে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, অনুসন্ধান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই এ ধরনের মন্তব্য তার মানহানি করেছে। তিনি দুদকের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।
তবে দুদকের অনুসন্ধান এখনো চলমান। ফলে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা বা দায় সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে অস্বীকার ও রাজনৈতিক হয়রানির দাবি করা হলেও, অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিষয়গুলো যাচাই করার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে দুদকের চাওয়া নথিপত্র পাওয়ার পর অনুসন্ধানকারী দল সংশ্লিষ্ট নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।