আগস্টে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে
তাহিনা হোসেন ||
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ আপডেটেড বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে প্রায় ২ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবাহ ১০ দশমিক ৮২ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে প্রবাসী আয় ২ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও টানা তৃতীয় মাসের মতো মাসিক রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে রয়েছে। এর আগে জুনে ২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন এবং জুলাইয়ে ২ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।
দুই মাসে রেমিট্যান্স ৫.৮২ বিলিয়ন ডলার
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস—জুলাই ও আগস্টে—দেশে মোট প্রায় ৫ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।
জুলাইয়ে প্রবাসীরা ২ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন। ফলে আগস্টে রেমিট্যান্স প্রবাহ জুলাইয়ের তুলনায়ও বেড়েছে।
আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে বাড়ছে প্রবাসী আয়
ব্যাংকারদের মতে, বৈধ বা আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধির পেছনে অনুকূল বিনিময় হার, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থার উন্নতি এবং সরকারের দেওয়া ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা ভূমিকা রাখছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ডলার-টাকার বিনিময় হারও প্রবাসীদের আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে অনুকূল রয়েছে। আগস্টে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে প্রতি ডলারের দাম প্রায় ১২২–১২৩ টাকার মধ্যে ছিল বলে ব্যাংকারদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তির বার্তা
রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ফলে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে তারল্য বাড়ে এবং আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক দায় পরিশোধ ও সামগ্রিক বহিঃখাতের চাপ সামলাতে সহায়তা করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। চলতি অর্থবছরের শুরুতেও সেই প্রবাহের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।
তিন মাস ধরে ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে
তবে রেমিট্যান্সের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোর প্রবাহ এখনো ৩ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করতে পারেনি। জুন, জুলাই ও আগস্ট—এই তিন মাসেই রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে ছিল।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক-ভিত্তিক সর্বশেষ প্রতিবেদনে আগস্টের ২ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলারকে আগের বছরের সংশোধিত ২ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১০ দশমিক ৮২ শতাংশ বেশি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু প্রাথমিক প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের আগস্টের তুলনামূলক পরিমাণ ২ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার ব্যবহার করে প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা বলা হয়েছিল; পরবর্তী আপডেটেড তথ্যের ভিত্তিতে তুলনামূলক সংখ্যাটি পরিবর্তিত হয়েছে।