ভোটার এলাকা বদলালেন এনসিপির আসিফ ও নাসীরুদ্দীন, উত্তরে-দক্ষিণে নতুন ঠিকানা
ঢাকা প্রতিনিধি ||
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই শীর্ষ নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজেদের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন। একজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে ঢাকা উত্তরে, অন্যজন ঢাকা উত্তর থেকে দক্ষিণে ভোটার হয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে একই সময়ে দুই নেতার ভোটার এলাকা পরিবর্তনের বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আসিফ মাহমুদের নতুন ভোটার এলাকা আফতাবনগর
এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকার ভোটার ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানান আসিফ মাহমুদ। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-১৩-এর মাধ্যমে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করেছিলেন। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে আবেদনটি অনুমোদন করা হয়েছে।
নতুন ভোটার এলাকা হিসেবে আফতাবনগর ঢাকা-১১ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে তাঁর ভোটার নিবন্ধন এখন ঢাকা দক্ষিণের পরিবর্তে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় পড়েছে।
উত্তরা থেকে ঢাকা-৮-এ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
অন্যদিকে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরা এলাকার ভোটার থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনে ভোটার হয়েছেন।
এনসিপির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তাঁর ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন করা হয়েছিল।
পাটওয়ারী আগে উত্তরা এলাকার ঢাকা-১৮ সংসদীয় আসনের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। নতুন নিবন্ধনের ফলে তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন ঢাকা-৮ আসনের ভোটার হয়েছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা
একই দিনে এনসিপির দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার ভোটার এলাকা পরিবর্তনের ঘটনা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। আসিফ মাহমুদ ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা দক্ষিণে ভোটার হওয়ায় বিষয়টি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে দলটির সম্ভাব্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও নানা আলোচনা তৈরি করেছে।
তবে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁদের নির্দিষ্ট কোনো নির্বাচনী প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত সরাসরি যুক্ত—এমন কোনো নিশ্চিত ঘোষণা দুই নেতার পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের ভবিষ্যৎ নির্বাচনী ভূমিকা নিয়ে কোনো অনুমানকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
একই দিনে দুই নেতার ভোটার এলাকা পরিবর্তন
রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ঢাকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা ও সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। ফলে এনসিপির দুই নেতার ভোটার এলাকা পরিবর্তনকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।
তবে ভোটার এলাকা পরিবর্তন নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। তাই এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট নেতাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।