অর্থপাচার রোধে সরকারি-বেসরকারি অংশীজনদের নিয়ে বিএফআইইউর নতুন উদ্যোগ
ঢাকা প্রতিনিধি॥
বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার বা ট্রেড-বেজড মানি লন্ডারিং (টিবিএমএল) প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীজনদের নিয়ে একটি আন্তঃসংস্থা স্টিয়ারিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
বিএফআইইউর উদ্যোগে গত ৩০ আগস্ট সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচারের বিদ্যমান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং তদন্তে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রস্তাবিত কমিটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলের আওতায় কাজ করবে। এতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, তফসিলি ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, ঢাকা ও বেনাপোল কাস্টমস হাউসসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ১৫টি তফসিলি ব্যাংকের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বিএফআইইউ জানিয়েছে, বাণিজ্যভিত্তিক অর্থপাচারের পদ্ধতি ও কৌশল ক্রমেই জটিল ও পরিবর্তনশীল হচ্ছে। ফলে শুধু একটি সংস্থার নজরদারির মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ কার্যকরভাবে শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা কঠিন। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বিত ঝুঁকি বিশ্লেষণ কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন স্টিয়ারিং কমিটি বিদ্যমান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনা, ইতোমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপের অগ্রগতি মূল্যায়ন, তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে কাজ করবে। নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU), প্রথম আলো, The Business Standard
New York Voice Bangla