জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে ট্যাব দেওয়ার উদ্যোগ, মেয়েদের জন্য সাইকেল
নিউজ ডেস্ক ||
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত করতে একটি করে ট্যাব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের শিক্ষায় আরও উৎসাহিত করতে সাইকেল দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য জানান। তাঁর বক্তব্যের বরাতে ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি) জানিয়েছে, ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতেই ট্যাব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ট্যাব
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ৫২ হাজার ৭৮০ জন ছাত্র এবং ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন ছাত্রী। অর্থাৎ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রী সংখ্যা ১১ হাজার ১১৬ জন বেশি।
শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, এসব শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত করতে প্রত্যেককে একটি করে ট্যাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
তবে ট্যাব বিতরণের সময়সূচি, কী ধরনের ট্যাব দেওয়া হবে এবং কী প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে—এসব বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
মাধ্যমিকের মেয়েদের জন্য সাইকেল
মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের শিক্ষায় অংশগ্রহণ ও আগ্রহ বাড়াতে সাইকেল দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এটিকে ‘পিংক সাইকেল’ বা গোলাপি সাইকেল দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১৯ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। তবে সাইকেল কারা পাবেন, কোন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এর আওতায় আসবেন এবং বিতরণের সংখ্যা ও সময়সূচি কী হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত চূড়ান্ত নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা
কুয়েট দিবসের অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষায় সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, বর্তমানে বাজেটের ৩ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রয়েছে এবং তা ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
একই অনুষ্ঠানে ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উচ্চশিক্ষার পাঠ্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবোটিক্স ও বৈদ্যুতিক যানবাহন প্রযুক্তির মতো আধুনিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতেই উদ্যোগ
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ট্যাব দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো তাদের ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি দেওয়া এবং পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত করা। অন্যদিকে মাধ্যমিক পর্যায়ের মেয়েদের সাইকেল দেওয়ার পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষায় তাদের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ বাড়ানো।
সরকারি উদ্যোগ দুটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখন পরবর্তী নির্দেশনা, উপকারভোগী নির্বাচন এবং বিতরণ-সংক্রান্ত বিস্তারিত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।