তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পুনর্গঠন ও গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ: এলজিআরডি মন্ত্রী ড. মঈন খান
মো. আখতারুজ্জামান॥
নরসিংদী প্রতিনিধি॥
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুনর্গঠন ও গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে চলেছে। দীর্ঘদিনের দুঃশাসন ও ভোটারবিহীন নির্বাচনের যুগের অবসান ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর পলাশে মুক্ত পরিবেশে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ড. মঈন খান বলেন, ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। মৃত ব্যক্তিদের ভোট দেওয়া এবং ‘রাতের ভোট’-এর সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এসব অনিয়ম ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম ও ছাত্র-জনতা রুখে দাঁড়িয়েছিল। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে পলাশের চারজনসহ হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশকে পুনর্গঠন এবং গণতান্ত্রিক ধারায় এগিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নরসিংদীর পলাশ উপজেলা আধুনিক মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে পলাশ উপজেলা ও ঘোড়াশাল পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এসব কথা বলেন।
ড. মঈন খান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের পর ধ্বংসপ্রাপ্ত বাংলাদেশকে যেভাবে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, একইভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি কখনো জোর করে ক্ষমতা দখল করেনি; বরং দলটি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছে। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠাই বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গীকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পলাশের স্থানীয় শিল্পকারখানাগুলো দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অচিরেই পলাশের ধুঁকতে থাকা কলকারখানাগুলো সচল করা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিল্পাঞ্চলের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার প্রসঙ্গে ড. মঈন খান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত প্রতিটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা হবে। এ জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে পলাশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার সভাপতিত্ব করেন এবং যুগ্ম সম্পাদক বাহাউদ্দীন ভূঁইয়া মিল্টন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন পলাশ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আল-আমিন ভূঁইয়া, যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট এম. এ. বাছেদ, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ খান, ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন ভূঁইয়া সোহেল এবং সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান পাপন।
এ ছাড়া বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, কর্মী-সমর্থক এবং বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বিএনপির ৪৮ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাস, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপি আজ নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এখন দলের প্রধান দায়িত্ব।