হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানে মার্কিন হামলা, ‘প্রতিরক্ষামূলক অভিযান’ বলছে ওয়াশিংটন
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের খবরের পর দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক হামলার তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সীমিত আকারে ‘প্রতিরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে।
৩ নভেম্বর প্রকাশিত আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার রাতে ইরানের কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা আকাশে দুটি উড়োজাহাজ দেখার কথাও জানান। একই সময়ে বন্দর লেঙ্গেহ শহরেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর সম্ভাব্য হামলার সক্ষমতা সীমিত করা এবং মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে অভিযানের পূর্ণ বিবরণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হতাহতের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য এখনো সীমিত।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালির আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এর আগে ওই অঞ্চলে জাহাজে হামলা এবং নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এসব পরিস্থিতিকে সামরিক পদক্ষেপের পেছনে নিরাপত্তাজনিত কারণ হিসেবে তুলে ধরছেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হামলাকে প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে বর্ণনা করা হলেও ইরানের ভূখণ্ডে নতুন সামরিক অভিযান আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশেষ করে কূটনৈতিক আলোচনা চলার পাশাপাশি সামরিক হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এই সংঘাতের রাজনৈতিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিনেই ইরানে নতুন হামলার খবর সামনে এসেছে। ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক সিদ্ধান্ত নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে।
এখন পর্যন্ত হামলার পূর্ণাঙ্গ সরকারি বিবরণ, ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির নির্ভরযোগ্য হিসাব এবং পরবর্তী সামরিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, তা নির্ভর করছে দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের ওপর।