অনলাইন, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
‎কচাকাটা ডিগ্রি কলেজ নিয়ে অপ্রচার, তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এলাকাবাসী কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত বসুরহাট পৌর স্বপ্নপূরী মার্কেটের নির্বাচনে সভাপতি জাকের হোসেন, সম্পাদক তোফায়েল রাসেল নির্বাচিত পাকিস্তানে পোলিও টিকাদান কর্মীদের নিরাপত্তায় হামলা, দুই পুলিশ নিহত, অপহৃত চার স্বাস্থ্যকর্মী মাউন্ট এভারেস্টের কাছে অবতরণের সময় দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, ভারতীয় পর্যটক নিহত হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানে মার্কিন হামলা, ‘প্রতিরক্ষামূলক অভিযান’ বলছে ওয়াশিংটন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন: কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, নজর হাউস ও সিনেটের দিকে টানা আন্দোলনে অস্থির পোশাকশিল্প, ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে সড়কে শ্রমিকরা এমপি পুত্র সাদমান গ্রেপ্তার তরুণীকে জোরপূর্বক আট মাস ধরে আটকে বিয়ে করার অভিযোগ শ্রীমঙ্গলে দস্যুতার মামলার প্রধান ৩ আসামি গ্রেপ্তার স্বর্ণ ও মোবাইল উদ্ধার অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে দুই দফা অভিযানে ২৬ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ মৌলভীবাজারে জম-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক যুবক নিহত নেত্রকোণা সীমান্তে বিজিবির সাঁড়াশি অভিযান, বিপুল পরিমাণ চোরাই পণ্য জব্দ নওগাঁয় ক্লিনিক চত্বর থেকে অজ্ঞাত মধ্যবয়সী এক হিন্দু নারীর লাশ উদ্ধার
হোম › আমেরিকা › যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন: কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, নজর হাউস ও সিনেটের দিকে

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন: কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, নজর হাউস ও সিনেটের দিকে

যুক্তরাষ্ট্র ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৩:৫৯ এএম, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬ 8
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন: কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, নজর হাউস ও সিনেটের দিকে
মো: নাজমুল হাসান বাবু
মো: নাজমুল হাসান বাবুসম্পাদক ও প্রকাশক

যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন রাজনৈতিক দলের হাতে থাকবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্যও নির্বাচনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবগুলোতেই ভোট হচ্ছে। পাশাপাশি সিনেটের ৩৫টি আসন এবং ৩৬টি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদসহ বিভিন্ন স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল আগামী দুই বছর প্রেসিডেন্টের আইন প্রণয়ন, বাজেট ও প্রশাসনিক নীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।


প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কোনো দলকে অন্তত ২১৮টি আসন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে সিনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ৫০টি আসনই যথেষ্ট হতে পারে, কারণ সমানসংখ্যক আসন হলে ভাইস প্রেসিডেন্টের ভোটে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ৫১টি আসন প্রয়োজন।


নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনমত জরিপ ও রাজনৈতিক পূর্বাভাসে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সিনেটের প্রতিযোগিতা তুলনামূলকভাবে কঠিন এবং বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ। নির্বাচনের আগে কোন দল কতটি আসন পাবে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।


নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য। সিবিএস নিউজের ২ নভেম্বরের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের দিন আসার আগেই ৫ কোটি ৭০ লাখের বেশি মার্কিন নাগরিক আগাম ভোট দিয়েছেন। মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ শেষে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনা শুরু হবে। তবে কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের ফলাফল জানতে সময় লাগতে পারে।


নির্বাচনের ঠিক আগে ভোটের বৈধতা ও নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে আইনি বিতর্কও সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ২০ হাজার মেইল-ইন ব্যালট আলাদা করে রাখার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের করা জরুরি আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রশাসনের দাবি ছিল, এসব ব্যালটের সঙ্গে এমন ভোটারদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে, যারা নাগরিক নন। তবে আদালত ব্যালটগুলো আলাদা করে রাখার নির্দেশ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর আগে নিম্ন আদালতও প্রশাসনের আবেদন নাকচ করেছিল।


এই রায় নির্বাচনের আগে ভোটের বৈধতা, ভোটার তালিকা এবং ফেডারেল সরকারের ভূমিকা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও আলোচনায় এনেছে। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব মূলত অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে থাকায় ভোটার যোগ্যতা ও ব্যালট গণনা নিয়ে ফেডারেল প্রশাসন এবং অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।


মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আগামী দিনের রাজনৈতিক অবস্থানকেও প্রভাবিত করতে পারে। রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রশাসনের আইন ও নীতিগত উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সহজ হবে। বিপরীতে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি, তদন্ত এবং আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে।


এবারের নির্বাচনে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, পররাষ্ট্রনীতি এবং প্রেসিডেন্টের নেতৃত্ব নিয়ে ভোটারদের মনোভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।


সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণের ভোট নয়; এটি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি মার্কিন ভোটারদের সমর্থন বা অসন্তোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।