মাউন্ট এভারেস্টের কাছে অবতরণের সময় দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, ভারতীয় পর্যটক নিহত
বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের বেস ক্যাম্পের কাছাকাছি নেপালের পাহাড়ি এলাকায় অবতরণের সময় দুটি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে এক ভারতীয় পর্যটক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে নেপালের কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর সকালে নেপালের সোলুখুম্বু জেলার ফেরিচে এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৮টা ১১ মিনিটে ফেরিচে হেলিপ্যাডে অবতরণের সময় ফিশটেইল এয়ার ও এয়ার ডাইনেস্টি পরিচালিত দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের চেন্নাইয়ের ৪৭ বছর বয়সী বাসিন্দা বসন্ত কুমার বালরামুডু। তিনি ফিশটেইল এয়ারের হেলিকপ্টারে ছিলেন। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে একটি প্রভু এয়ার হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাঁর মরদেহ লুকলায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আহত তিনজনের মধ্যে রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের ৪৯ বছর বয়সী পর্যটক সেলিশকুমার প্যাটেল এবং দুটি হেলিকপ্টারের পাইলট। আহত পর্যটক ও একজন পাইলটকে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুর মেডিসিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অন্য পাইলটকে লুকলার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাঁর শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় হেলিকপ্টার দুটিতে মোট কতজন যাত্রী ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট ছিল না। নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অবতরণের সময় হেলিকপ্টার দুটির রোটর ব্লেডের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল।
ফেরিচে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের জনপ্রিয় ট্রেকিং রুটে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। পাহাড়ি দুর্গমতার কারণে এ অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ নেই বললেই চলে। ফলে পর্যটক, পর্বতারোহী ও অসুস্থ ব্যক্তিদের পরিবহন এবং জরুরি উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষ করে এভারেস্ট অঞ্চলে উচ্চতাজনিত অসুস্থতা, আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন এবং দুর্গম পথের কারণে হেলিকপ্টার পরিবহনের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। তবে পাহাড়ি এলাকায় সীমিত অবতরণস্থান, উচ্চতা, বাতাসের পরিবর্তন এবং দৃশ্যমানতার সমস্যা উড়োজাহাজ পরিচালনাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।
এ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অবতরণের সময় পাইলটদের মধ্যে যোগাযোগ, হেলিপ্যাডের ব্যবস্থাপনা, আবহাওয়া এবং উড়োজাহাজ পরিচালনার নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে উঠে আসতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক ও পর্বতারোহী এভারেস্ট অঞ্চলে যান। এ দুর্ঘটনা ওই অঞ্চলে পর্যটক পরিবহন ও হেলিকপ্টার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।