অনলাইন, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
নওগাঁয় ইউপি কার্যালয়ের পাশের বাড়ি থেকে ১ হাজার ৯০০ কেজি ভিজিডব্লিউবি চাল উদ্ধার কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের ৫৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হিজড়াদের দুর্ভোগ আর বঞ্চনার ‘ফাঁদ’ মেডিকেল সনদ হিজড়াদের দুর্ভোগ আর বঞ্চনার ‘ফাঁদ’ মেডিকেল সনদ নাসিরনগরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ব়্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত । তারুণ্যের দীপ্ত পদচারণায় কুড়িগ্রামে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত শ্যালিকাকে বিয়ে; মুখে চুনকালি মাখিয়ে জুতার মালা দিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকেও বিদায় নওগাঁয় ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন শিশুসহ এক দম্পতি কোম্পানীগঞ্জে দাম্পত্য কলহের জেরে থানার গেটের সামনে সংঘর্ষ, আটক ৫ শ্রীমঙ্গল থেকে অজগর ও শঙ্খিনী সাপ উদ্ধার দৌলতপুরে পুলিশের পৃথক অভিযান,সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও মাদকসহ গ্রেপ্তার ৬ ,গাঁজার গাছ উদ্ধার। দ্রুতগতির ইজিবাইকের সামনে হঠাৎ দৌড়ে চলে এলো নারী, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু শ্যালিকাকে বিয়ে করে এলাকা ছাড়লেন যুবক, আশ্রয় নিলেন শ্বশুরবাড়ি মহাদেবপুরে নওগাঁয় ৬৩ জন গ্রাম পুলিশকে বাইসাইকেল দিলেন এমপি ফজলে হুদা
হোম › বাংলাদেশ › হিজড়াদের দুর্ভোগ আর বঞ্চনার ‘ফাঁদ’ মেডিকেল সনদ

হিজড়াদের দুর্ভোগ আর বঞ্চনার ‘ফাঁদ’ মেডিকেল সনদ

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৯:২৯ এএম, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ 3
হিজড়াদের দুর্ভোগ আর বঞ্চনার ‘ফাঁদ’ মেডিকেল সনদ
মো: জামাল হোসেন
মো: জামাল হোসেনযশোর বেনাপোল প্রতিনিধি॥

সরকারি সুযোগ-সুবিধাসহ নানা প্রয়োজনে যে ‘মেডিকেল সনদ’ দরকার তা অর্জনেই গলদঘর্ম হতে হয় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে। যশোর-ঢাকায় নানান পরীক্ষার বহর আর ‘অপমানজনক বিড়ম্বনায়’ হতাশ হয়ে সনদ গ্রহণের চেষ্টা থেকে সরে দাঁড়ান তারা। ফলে বঞ্চিত হন ভাতা, আশ্রয়ণ, ভিজিটি, ওএমএস, টিসিবি কার্ড, শিক্ষা ও চাকরি সুবিধা থেকে। তাই সনদ প্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে সহজ এবং সহায়ক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।


তবে স্বাস্থ্য বিভাগের বক্তব্য, তৃতীয় লিঙ্গ বা হিজড়াদের মেডিকেল সনদ পাওয়ার জন্য কিছু অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয়ভাবে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ছাড়া নিয়মের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে তারাও চান হিজড়ারা সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে টিকে থাকুক।


হিজড়াদের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, যশোর শহরসহ আটটি উপজেলায় তাদের হিসাব অনুযায়ী পাঁচ শতাধিক হিড়জার বসবাস। তবে এর বাইরেও অনেক হিজড়া রয়েছে। আর এদের মধ্যে মাত্র ১১৮ জন সমাজসেবা অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত। এই তালিকাভুক্তদের মাঝে নিয়মিত ভাতা পান ৮২ জন। এর মধ্যে যশোর পৌর এলাকায় ২১ জন, সদর উপজেলায় ৯ জন, ঝিকরগাছায় ২০ জন, শার্শায় ১২ জন, কেশবপুরে ১৫ জন, মণিরামপুরে ১৩ জন, অভয়নগরে ১৩ জন, বাঘারপাড়ায় ১০ জন ও চৌগাছায় ৫ জন রয়েছেন। এরা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাসিক ৬০০ টাকা করে ভাতা পান। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের আগ পর্যন্ত সরকারি ভাতা পেতে হিজড়াদের বয়সসীমা পৌঁছাতে হতো ৫০ বছরে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের দাবির মুখে ভাতা প্রাপ্তির বয়সসীমা ৫০ বছরের জায়গায় শিশুকাল নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখনো তা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


তবে এই ‘হিজড়া’ নির্ধারণ নিয়েই দুর্ভোগে পড়তে হয় হিজড়াদের। সরকারি নীতিমালায় স্পষ্ট বাধা না থাকলেও মেডিকেল সনদ পেতে দীর্ঘ প্যাথলজিক্যাল টেস্টের তালিকা এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসা পদ্ধতির কারণে সনদ পেতে অনীহা তৈরি হচ্ছে হিজড়া সম্প্রদায়ের মধ্যে। সনদ না থাকায় তারা ভাতা থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন না।


ভুক্তভোগীরা জানান, মেডিকেল সনদের জন্য সিভিল সার্জন অফিসে আবেদনের পর দীর্ঘ টেস্ট ধরিয়ে দেওয়া হয়। যার মধ্যে মাত্র দুটি টেস্ট যশোরে এবং বাকি ৮ থেকে ১০টি টেস্ট রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করার বাধ্যবাধকতা থাকে। এসব টেস্টের প্রথম ধাপে ডাক্তার, নার্স ও কখনো কখনো সমাজসেবা কর্মকর্তাদের সামনে বিবস্ত্র হয়ে পরীক্ষা দিতে হয়, যা অত্যন্ত অপমানজনক ও তিক্ত অভিজ্ঞতার জন্ম দেয়।

তারা আরও জানান, অধিকাংশ হিজড়া পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ও চরম দরিদ্র। তাদের পক্ষে রাজধানী ও বিভিন্ন হাসপাতালে যাতায়াতসহ ৮-১০টি ব্যয়বহুল টেস্ট সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। ফলে এই জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে বেশিরভাগ হিজড়াই শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে যান।


হিজড়াদের নিয়ে কাজ করা উন্নয়ন সংস্থা অর্পণ মানব কল্যাণ সংস্থার সমন্বয়ক রুবাইদুল হক সুমন বলেন, যশোরের প্রায় সব হিজড়াই দরিদ্র। ফলে এতগুলো ব্যয়বহুল মেডিকেল টেস্টের জন্য ঢাকায় যাতায়াতসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় বহন করার সামর্থ্য নেই। হাতেগোনা দু-চার জন ছাড়া। এছাড়া পরিধেয় বস্ত্র সরিয়ে যেভাবে মেডিকেল টেস্ট করা হয় তা অপমানজনক ও তিক্ত অভিজ্ঞতার জন্ম দেয়।এজন্য প্রতি জেলায় মেডিকেল বোর্ড করার দাবি জানিয়ে সুমন বলেন, সরকারি নীতিমালায় আছে সিভিল সার্জন অফিস একটি মেডিকেল বোর্ড করবে, যাচাই বাছাই করে মেডিকেল সনদ দিয়ে দেবে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে হিজড়া গুরুরাও শনাক্ত করে প্রত্যয়ন দেবেন। এভাবে প্রক্রিয়াটি করা গেলে হিজড়াদের জন্য অনেক সহজ হয়ে যায়।


হিজড়াদের দাবি আদায়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ভূমিকা রাখা গোলাম মোস্তফা নীল বলেন, আমাকে মেডিকেল টেস্ট করতে গিয়ে হয়রানির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। সাতটি টেস্ট দেওয়া হয়েছিল। অত্যন্ত ব্যয়বহুল এ টেস্টগুলোর সব যশোরেও করা যায়নি। দুটি যশোরে করতে পেরেছি, বাকি টেস্টের জন্য ঢাকায় যেতে হয়েছে। অধিকাংশ হিজড়া দরিদ্র হওয়ায় তারা মেডিকেল টেস্ট করতে চান না। ফলে সনদ না থাকাতে সরকারি সুযোগ সুবিধা বঞ্চিতই থাকছেন আমাদের কমিউনিটির মানুষ।


ফাবিহা বুশরার অভিজ্ঞতাও সুখকর নয়। তিনি বলেন, মেডিকেল টেস্ট করতে গিয়ে অত্যন্ত তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা বলে বোঝাতে পারব না। প্রয়োজনীয় টেস্ট ছাড়া অন্যান্য টেস্ট যদি কমানো যায়, আর ধাপগুলো যদি সহজ করা যায়, তাহলে আমাদের জন্য ভালো হয়। শুধুমাত্র এই একটি জায়গায় আটকে থাকার কারণে আমরা এ দেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও সরকারি সমস্ত সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছি। তাই মেডিকেল টেস্টের ধাপটি সহজ করার দাবি জানান তিনি।


সেলিম হোসেন বিজয় বলেন, যশোরের অধিকাংশ হিজড়াই দরিদ্র, তাই সবাই ভাতা পেতে চেষ্টা করেন। কিন্তু মেডিকেল সনদের জটিলতায় অল্প কিছু হিজড়া সরকারি ভাতা পান। ৬০০ টাকার এ ভাতা নিশ্চিত করতে গিয়ে হিজড়াদের যতটা বেগ পেতে হয়, তাতে অন্য সুযোগ সুবিধার কথা বাদই দিলাম। আমাদের যতটা প্রয়োজন তার বেশি টেস্ট দেওয়াটা অমানবিক, কারণ সবাই সামর্থ্যবান না। ৭-৮টি বা ১০-১২টি ব্যয়বহুল মেডিকেল টেস্ট করার সামর্থ্য অধিকাংশ দরিদ্র হিজড়ারই থাকে না, আর এটি করতে গিয়ে তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়।


তবে কেন্দ্রীয়ভাবে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ছাড়া নিয়মের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, হিজড়াদের মেডিকেল সনদ পাওয়ার জন্য কিছু অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। জেন্ডার ও হরমোনাল বিষয় নিশ্চিত করতে এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়। এগুলো ছাড়া মেডিকেল সনদ প্রদান সম্ভব নয়। আর মেডিকেল টেস্টের অধিকাংশ প্রক্রিয়া রাজধানীভিত্তিক হওয়ায় স্থানীয়ভাবে তা সহজ করার সুযোগ সীমিত।


তিনি আরও উল্লেখ করেন, যেহেতু এই পরীক্ষা একবারই করতে হয়, তাই কষ্ট করে হলেও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সনদ নেওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে হিজড়াদের যেসব সংগঠন আছে, তারা কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষার ফি কমানো এবং প্রক্রিয়াকে সহজতর করার জন্য আলোচনার উদ্যোগ নিতে পারে। সেক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যেকোনো নির্দেশনাই তারা যথাযথভাবে প্রতিপালন করবেন।