Columbus, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
ইভানগোলা স্টেট পার্কে গ্রেটার কুমিল্লা সোসাইটির বার্ষিক বনভোজন পলাতক কোনো দুষ্কৃতিকারীকে আশ্রয় দেবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর দিল্লিতে সেলিম মাহমুদের সেমিনার বাতিল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কিছু বলতে চাই না: ভারতের হাইকমিশনার বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা ইস্যুতে ফের সুযোগ অর্থপাচার রোধে সরকারি-বেসরকারি অংশীজনদের নিয়ে বিএফআইইউর নতুন উদ্যোগ এলজিইডি মন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ বিশ্ব বন্ডবাজারে নতুন করে বড় চাপ গ্যাসের সংকট ৭ দিনের মধ্যে কেটে যাবে: রিজভী বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মা-বাবার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা ইউরোপে AI শক্তির নতুন দিগন্ত, ৪৪৯ মিলিয়ন ডলারে তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক সুপারকম্পিউটার পুতিন-শি বৈঠক: আরও শক্তিশালী রাশিয়া-চীন সম্পর্কের বার্তা, বিশকেকে SCO সম্মেলন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশে একাধিক পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ হচ্ছে ১ ও ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ‘দেশের প্রথম’ রোবোটিক সার্জারি, একদিনে দুই রোগীর অস্ত্রোপচার ঢাবির তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠন, সাময়িক বরখাস্ত
হোম আমেরিকা ইভানগোলা স্টেট পার্কে গ্রেটার কুমিল্লা সোসাইটির বার্ষিক বনভোজন

ইভানগোলা স্টেট পার্কে গ্রেটার কুমিল্লা সোসাইটির বার্ষিক বনভোজন

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৭:২২ এএম, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 24
ইভানগোলা স্টেট পার্কে গ্রেটার কুমিল্লা সোসাইটির বার্ষিক বনভোজন

বাফেলো প্রতিনিধি॥

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বাফেলোতে বসবাসরত কুমিল্লা অঞ্চলের প্রবাসীদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রেটার কুমিল্লা সোসাইটি অব বাফেলো নিউইয়র্ক ইনক.-এর বার্ষিক বনভোজন ২০২৬। শনিবার, ২৯ আগস্ট ইভানগোলা স্টেট পার্কে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো পার্কজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।


বাফেলো ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার প্রবাসী কুমিল্লাবাসীর এই মিলনমেলায় ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস, পারস্পরিক সৌহার্দ্য, আড্ডা, বিনোদন ও নানা আয়োজন। দীর্ঘদিন পর স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতজনদের সঙ্গে একত্রিত হওয়ার সুযোগ পেয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। আয়োজকদের মতে, এবারের বনভোজন শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়; বরং প্রবাসে কুমিল্লাবাসীর পারস্পরিক যোগাযোগ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক আয়োজন।


আয়োজনের সার্বিক নেতৃত্বে ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মো. শাহজাহান সিরাজ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. বদিউল আলম ভূঁইয়া। তাদের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় আয়োজক কমিটির সদস্যরা পুরো আয়োজন বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করেন। বনভোজন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফিরোজ আহমেদ, সদস্য সচিব ছিলেন মিয়া মো. শামীম, প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন আবুল কাশেম এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মো. জাকির হোসেন।


আয়োজনের বিভিন্ন পর্যায়ে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে লিয়াকত এম. তারিক, বাবলু তালুকদার, গিয়াস উদ্দিন মজুমদার, সেলিম খান ও বাতেন সরকার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন আরশাদ হোসেন, মহসিন সরকার, এ. কে. এম. আবু হানিফ, হাসান দুলাল ও হাসান মোহাইমিন। একইভাবে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে সামছুদ্দিন সজু, শিমুল আক্তার, মোস্তফা কামাল, রকিবুল আমিন সরকার ও আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে রিপন হক, ওমর ফারুক, ইসমাইল হোসেন, লুৎফর রহমান ও নিজাম উদ্দিন দায়িত্ব পালন করেন।


আয়োজনের পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নে সংগঠনের উপদেষ্টারাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, বদরুদ্দোজা রাজীব, ড. মো. গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, মোহা. ফারুক আহমেদ, আনামুল হক মনু, ঝাসিম কবির, আমানুল হক শান্ত, ফিরোজ আহমেদ, শাহীনুর ইসলাম, এস. এম. তালাল রেজভী, এ. টি. এম. নাঈমুল হক, আব্দুল মজিদ, আবু সাঈদ মোহাম্মদ মোহসিন, মাসুদ আহমেদ, তোফাজ্জল এইচ. ভূঁইয়া, আহমেদ শাফি ভূঁইয়া, নুরুল ইসলাম, মোহিউদ্দিন সরকার ও দেওয়ান হোসেন। তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতায় আয়োজনটি আরও সুসংগঠিতভাবে সম্পন্ন হয়।


বনভোজনের সার্বিক সফলতায় আরও যারা সহযোগিতা করেন তাদের মধ্যে ছিলেন মো. শাহিনুর রহমান, নূর মুনতাকিম সুমন, মো. জসিম, কামাল হোসেন, মোহাম্মদ বেলাল হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ শামীম আল মামুন জুয়েল, শরীফ জাদা রহমান শুভ্র, মোস্তাক আহমেদ খান, শিমুল আক্তার, তানভীর তালুকদার, আব্দুল মান্নান, মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম আসিফ, অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন, এনামুল হক পাখি, মো. ফয়জ উল্লাহ প্রধান, মো. আব্দুল মতিন, মো. এ. হাশেম, মোস্তাফিজুর রহমান পাপেল ও মো. আসাদুজ্জামান। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে তাদের প্রত্যেকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।


এবারের বনভোজনের গ্র্যান্ড স্পনসর হিসেবে সহযোগিতা করেন থানন রিজভী, অ্যাটর্নি অ্যাট ল। তাঁর সহযোগিতার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য স্পনসর, শুভানুধ্যায়ী ও সহযোগীদের প্রতিও ধন্যবাদ জানান আয়োজকরা।


বনভোজনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে আয়োজন করা হয় র‌্যাফেল ড্র। মোট ১৫টি আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা ছিল। এর মধ্যে প্রথম পুরস্কার ছিল আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স, দ্বিতীয় পুরস্কার নিউইয়র্ক–ঢাকা–নিউইয়র্ক এয়ার টিকিট, তৃতীয় পুরস্কার স্বর্ণের চেইন এবং চতুর্থ পুরস্কার ছিল আইফোন ১৬। এ ছাড়া আরও বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার রাখা হয়, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাড়তি আনন্দ ও আগ্রহ সৃষ্টি করে।


আয়োজনে বৃহত্তর বাফেলো এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সম্মানিত অতিথি, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অতিথি, শুভানুধ্যায়ী, স্থানীয় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সবাইকে সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।


একই সঙ্গে বনভোজনের প্রচার ও সংবাদ কাভারে সহযোগিতা করা বিভিন্ন মিডিয়া পার্টনারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। প্রবাসী কমিউনিটির সামাজিক কর্মকাণ্ড ও পারস্পরিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন আয়োজকরা।


অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এত বড় আয়োজন করতে গিয়ে কোনো জানা-অজানা ভুল, অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি বা অসঙ্গতি হয়ে থাকলে তার জন্য সম্মানিত অতিথি, অংশগ্রহণকারী ও সংশ্লিষ্ট সবার কাছে তারা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ভবিষ্যতে আরও সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও সফল আয়োজন করতে সবার মূল্যবান পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করা হয়।


আয়োজকদের মতে, “ঐক্যই আমাদের শক্তি”— এই বিশ্বাসকে সামনে রেখে প্রবাসের মাটিতে কুমিল্লাবাসীর সামাজিক বন্ধন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ব আরও শক্তিশালী করাই সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে নিজেদের শিকড়, সংস্কৃতি ও আঞ্চলিক ঐতিহ্যের সম্পর্ক ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


এবারের বনভোজন তাই শুধু একটি পিকনিকের আয়োজন ছিল না; বরং এটি ছিল প্রবাসী কুমিল্লাবাসীর মিলন, পরিচয়, সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও ঐক্যের একটি প্রাণবন্ত সামাজিক উৎসব। দিনব্যাপী আনন্দঘন আয়োজন শেষে আগামী বছর আরও বড় পরিসরে সবাইকে নিয়ে আবারও মিলিত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে গ্রেটার কুমিল্লা সোসাইটি অব বাফেলো নিউইয়র্ক ইনক.


আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে সকলের সুস্বাস্থ্য, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করে সবার দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হয়েছে।