ইরাক থেকে ড্রোন হামলার পর সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | নিউইয়র্ক ভয়েস বাংলা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরাক থেকে চালানো ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং পাইপলাইনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে ইরাক থেকে আসা একাধিক ড্রোন দিয়ে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। হামলায় হতাহতের পাশাপাশি অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও মেরামতের কাজ শুরু করেছে।
প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে অপরিশোধিত তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পৌঁছে দেয়। ফলে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানির জন্য পাইপলাইনটি সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ।
বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে পাইপলাইনটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার পর সৌদি আরব এই বিকল্প রুটের ওপর বেশি নির্ভর করছিল। ফলে পাইপলাইনটি সাময়িক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পর জরুরি ও বিশেষায়িত কারিগরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পাইপলাইন নিরাপদ করার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ শুরু করে। কতদিন পাইপলাইনটি বন্ধ থাকবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
পাল্টা হামলা চালায়নি সৌদি
হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে ইরাকের বিরুদ্ধে সামরিক প্রতিক্রিয়ায় যায়নি সৌদি আরব। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী অনুরোধ করায় বাগদাদকে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সৌদি আরব ও প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
তবে সৌদি আরব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, নাগরিক ও বাসিন্দাদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তারা সংরক্ষণ করে। অর্থাৎ আপাতত সংযত অবস্থান নিলেও ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানানোর পথ খোলা রেখেছে রিয়াদ।
ইরাকের তদন্ত
হামলার ঘটনায় ইরাকও তদন্ত শুরু করেছে। বাগদাদ জানিয়েছে, নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে ইরাকি সরকার।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে হামলা চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বাগদাদ হামলার উৎস ও জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। একই সঙ্গে ইরাক একটি সীমান্ত ক্রসিং সাময়িকভাবে বন্ধ করার পদক্ষেপও নিয়েছে।
এদিকে এই হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি সৌদি আরবের বিকল্প রপ্তানি অবকাঠামোও যদি হামলার মুখে পড়ে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১০৪.৫৬ ডলার প্রতি ব্যারেলে স্থির হয় এবং সপ্তাহে দাম ৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, সৌদি প্রেস এজেন্সি (SPA), আল জাজিরা, এএনএডোলু।