আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বৈধতা নিয়ে রিট খারিজ
ঢাকা প্রতিনিধি | নিউইয়র্ক ভয়েস বাংলা
আওয়ামী লীগ ও দলটির সব অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটি ‘উত্থাপিত হয়নি’ মর্মে খারিজের আদেশ দেন। ফলে ২০২৫ সালের ১২ মে জারি করা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি চ্যালেঞ্জ করে করা এই রিটের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত বা বাতিলের কোনো সুযোগ তৈরি হলো না।
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাসিন্দা মো. আল আমিন গত ৭ সেপ্টেম্বর রিটটি দায়ের করেন। তাঁর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনূস আলী আবেদনটি করেন। রিটে ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে রুল জারির আবেদন করা হয়েছিল। একই সঙ্গে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়।
ওই প্রজ্ঞাপনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চলমান বিচারকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির পাশাপাশি এর সব অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রকাশনা, গণমাধ্যমে প্রচারণা, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।
রিটটি দায়েরের পর বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কারণ, নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করে আদালতের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ সরানোর একটি আইনি পথ তৈরির চেষ্টা হিসেবে বিষয়টি দেখা হচ্ছিল।
তবে সেই আবেদন শুনানির পর্যায়ে গিয়ে ‘উত্থাপিত হয়নি’ মর্মে খারিজ হওয়ায় এই রিটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো আদেশ আসেনি।
২০২৫ সালের ১২ মে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার কথা রয়েছে। ফলে হাইকোর্টের সর্বশেষ আদেশের পরও ওই প্রজ্ঞাপন বহাল রয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর বিষয়ে একাধিক সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পরে ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের পরিচয়ে ঝটিকা মিছিল ও রাজনৈতিক কর্মসূচির খবরও সামনে এসেছে। তবে সরকারি প্রজ্ঞাপনের কারণে দলটির প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম এখনো নিষিদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।