প্রথম দিনেই শতক, দ্বিতীয় দিনেই ধাক্কা—বক্স অফিসে বড় পতন ইয়াশের ‘টক্সিক’-এর
বিনোদন ডেস্ক ||
ভারতের বক্স অফিসে দুর্দান্ত সূচনা করেও দ্বিতীয় দিনেই বড় ধাক্কা খেল ইয়াশ অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘টক্সিক: এ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’। প্রথম দিনে শতকোটি রুপি নেট আয় করা ছবিটি দ্বিতীয় দিনে আয় করেছে আনুমানিক ৩৬.৪০ কোটি রুপি। ফলে এক দিনের ব্যবধানে ছবিটির ভারতীয় বক্স অফিস আয় কমেছে প্রায় ৬৪ শতাংশ।
গীতু মোহনদাস পরিচালিত সিনেমাটি ২৬ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। ইয়াশের পাশাপাশি এতে অভিনয় করেছেন কিয়ারা আদভানি, নয়নতারাসহ একাধিক তারকা। প্রথম দিনেই ছবিটি সব ভাষা মিলিয়ে ভারতে আনুমানিক ১০১.১০ কোটি রুপি নেট আয় করে। এর মাধ্যমে ইয়াশের ক্যারিয়ারে ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’-এর পর এটি দ্বিতীয় সিনেমা হিসেবে ১০০ কোটি রুপির ওপেনিং করে।
দ্বিতীয় দিনে আয় কমল ৬৪ শতাংশ
বক্স অফিসের হিসাব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার অর্থাৎ মুক্তির দ্বিতীয় দিনে ‘টক্সিক’ ভারতে প্রায় ৩৬.৪০ কোটি রুপি নেট আয় করে। প্রথম দিনের ১০১.১০ কোটি রুপির তুলনায় এই পতন প্রায় ৬৪ শতাংশ।
দুই দিনে ছবিটির ভারতীয় নেট আয় দাঁড়ায় আনুমানিক ১৩৭.৫০ কোটি রুপি। দ্বিতীয় দিনের এই পতন ছবিটির প্রথম দিনের দুর্দান্ত সূচনার তুলনায় স্পষ্ট মন্থরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
হিন্দি সংস্করণেই সবচেয়ে বেশি আয়
দ্বিতীয় দিনের আয়ে হিন্দি সংস্করণ সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে। বিভিন্ন বক্স অফিস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় দিনে হিন্দি সংস্করণ থেকে প্রায় ২৩ কোটি রুপি, কন্নড় সংস্করণ থেকে ৮.৫০ কোটি, তেলুগু থেকে ৩ কোটি, তামিল থেকে ১.৫০ কোটি এবং মালয়ালম সংস্করণ থেকে প্রায় ৪০ লাখ রুপি এসেছে।
অর্থাৎ, ছবিটির হিন্দি বাজারের পারফরম্যান্সই বর্তমানে সামগ্রিক বক্স অফিস প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
‘কেজিএফ ২’-এর তুলনায় পিছিয়ে
ইয়াশের আগের বড় সাফল্য ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’-এর সঙ্গে তুলনা করলে দ্বিতীয় দিনের পতনটি আরও স্পষ্ট হয়। ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’ মুক্তির প্রথম দুই দিনে ভারতে প্রায় ২০৬.৫০ কোটি রুপি নেট আয় করেছিল—প্রথম দিনে ১১৬ কোটি এবং দ্বিতীয় দিনে ৯০.৫০ কোটি রুপি।
অন্যদিকে ‘টক্সিক’ প্রথম দুই দিনে প্রায় ১৩৭.৫০ কোটি রুপি নেট সংগ্রহ করেছে। ফলে ইয়াশের আগের ব্লকবাস্টারের মতো শক্তিশালী দ্বিতীয় দিনের গতি ধরে রাখতে পারেনি নতুন ছবিটি।
সমালোচনার প্রভাব কতটা?
ছবিটির বক্স অফিস পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দর্শক ও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়াও আলোচনায় এসেছে। মুক্তির পর ‘টক্সিক’ নিয়ে প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। কিছু প্রতিবেদনে এই মিশ্র প্রতিক্রিয়াকে দ্বিতীয় দিনের বড় পতনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বক্স অফিস কমার নির্দিষ্ট কারণ হিসেবে কোনো একটি বিষয়কে নিশ্চিতভাবে দায়ী করার মতো তথ্য নেই।
সামনে বড় পরীক্ষা
দ্বিতীয় দিনের বড় পতনের পর এখন ‘টক্সিক’-এর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে পরবর্তী কয়েক দিনের ব্যবসা। বিশেষ করে ছুটির সময় ও সপ্তাহান্তে দর্শকসংখ্যা বাড়াতে পারলে ছবিটি আবার গতি ফিরে পেতে পারে। বিপরীতে আয় যদি একইভাবে কমতে থাকে, তাহলে প্রথম দিনের বিশাল ওপেনিংয়ের পরও দীর্ঘমেয়াদি বক্স অফিস দৌড়ে চাপের মুখে পড়তে পারে সিনেমাটি।
এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ‘টক্সিক’ দুর্বলভাবে শুরু করেনি—বরং প্রথম দিনেই শতকোটি রুপির বেশি আয় করে বড় প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। কিন্তু দ্বিতীয় দিনের প্রায় ৬৪ শতাংশ পতন সেই প্রত্যাশার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।