Columbus, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিটিএমএ নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাওর বেষ্টিত নাসিরনগরে আশ্বিন মাসের কুয়াশা জানান দিচ্ছে আগাম শীতের বার্তা ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষকরা আলোকিত জাতি গঠনের কারিগর, দুর্গাপুরে আলোচনা সভায় বক্তারা কুড়িগ্রামে বিশ্ব বসতি দিবস পালিত: ‘সবার জন্য টেকসই ও নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিতের আহ্বান’ নাগেশ্বরী উপজেলার কবিরাজ শফিকুলের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন আসক্তির সংস্কৃতি নয়, কর্মের সংস্কৃতিই গড়তে পারে উন্নত জাতি ভার্কের উদ্যোগ শিক্ষাবৃত্তি পেল ৩২ মেধাবী শিক্ষার্থী নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু কুষ্টিয়া সীমান্তে ৯ হাজার ২৫০ কেজি সার উদ্ধার, ভারতে পাচারচেষ্টা ভেস্তে দিল বিজিবি। কুলাউড়ার নার্সারী পুন্জির পান গাছ কর্তনকারীদের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করুন--বিএনপি নেতা এড আবেদ রাজা ৬ আগষ্ট,২৪ ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পতনের ২য় দিনে কারাগার থেকে আবেদ রাজার মুক্তি নাসিরনগরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য ব়্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব শিক্ষক দিবসে কোম্পানীগঞ্জে শিক্ষকদের সম্মান ও অধিকার নিয়ে আলোচনা
হোম › জাতীয় › ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০২:৪৬ এএম, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬ 11
২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঢাকা প্রতিনিধি


জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এই সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।


কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। সফরকে সামনে রেখে ৫ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সফরের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।


সফরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে পারে অবকাঠামো প্রকল্পে জাপানি অর্থায়ন। বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের ঋণের সুদ ও অর্থায়ন ব্যয় কমানোর বিষয়ে টোকিওর সঙ্গে আলোচনা করতে চায় ঢাকা। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে জাপানের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।


জ্বালানি খাতও এবারের সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হতে পারে। জ্বালানি আমদানির কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর যে চাপ তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় জাপানের কাছে প্রায় ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই সহায়তা জ্বালানি আমদানি ও সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।


বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সহযোগী জাপান। স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশে অবকাঠামো, পরিবহন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে বিপুল পরিমাণ উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে। ঢাকার মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং অন্যান্য বড় প্রকল্পে জাপানের অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতা রয়েছে।


আগামী সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন শিল্প স্থাপন এবং প্রযুক্তি ও দক্ষতা স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএ। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইপিএ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং জাপানে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার নিয়েও আলোচনা হতে পারে।


দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিও সফরের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডায় থাকতে পারে। এর আগে বাংলাদেশ ও জাপান আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী জাপানে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। জাপানে বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন খাতে শ্রমিকের চাহিদার কারণে বাংলাদেশের জন্য এই শ্রমবাজারকে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


২০২৫ সালের মে মাসে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের জাপান সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ, জ্বালানি ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাতটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। ওই সফরে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন সফরকে সেই ধারাবাহিকতার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এবারের সফরে আগের সমঝোতাগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।


জাপানের ‘ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক’ ধারণা এবং বাংলাদেশের ‘বিগ-বি’ বা বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট উদ্যোগও দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক যোগাযোগ, বন্দর, শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের আগ্রহ বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।


সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয় ছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মতবিনিময় হতে পারে।


বিশেষ করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ—এসব বিষয়কে সামনে রেখে এবারের সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


চার দিনের সফর শেষে ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তবে সফরের চূড়ান্ত কর্মসূচি, বৈঠকের তালিকা এবং প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে আরও বিস্তারিত ঘোষণা আসতে পারে।