হাওর বেষ্টিত নাসিরনগরে আশ্বিন মাসের কুয়াশা জানান দিচ্ছে আগাম শীতের বার্তা
খ ম জায়েদ হোসেন
নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ
ঋতুর পালাবদলে এ সময় আশ্বিনের শেষ দিকে প্রকৃতিতেও পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করেছে। ভোরের বাতাসে মৃদু শীতলতা, শেষ রাতে হালকা চাদর গায়ে জড়ানোর প্রয়োজনীয়তা এবং গ্রামের কুয়াশার উপস্থিতি শীতের আগমনী বার্তা।
বাংলা আশ্বিন মাসের এ সময়েই দেশের সর্ব দক্ষিনে হাওর বেষ্টিত উপজেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর
প্রকৃতিতে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে শীতের আগমনী বার্তা।
ভোরের হালকা কুয়াশার সাদা চাদর আর হালকা ঠান্ডা বাতাসে বদলে যেতে শুরু করেছে এই অঞ্চলের সামগ্রিক আবহ। ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই হাওর এলাকা ঢেকে যাচ্ছে কুয়াশার সাদা আস্তরণে। গ্রামীণ মেঠোপথ, গাছপালা, উঠতি ফসলের মাঠ থেকে শুরু করে সমতলের সবুজ সবজিবাগান—সবকিছুতেই যেন জমছে কুয়াশার শীতল পরশ।
দিনের শুরুতে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হওয়া মানুষ কিংবা শরীরচর্চায় বের হওয়া পথচারীদের চোখে পড়ছে এই দৃশ্য। অনেকেই ভোরের এমন স্নিগ্ধ সৌন্দর্য দেখতে বাইরে বের হচ্ছেন। হালকা কুয়াশায় আবৃত ভোরের দিকে সড়কে কয়েক জনের সাথে হয় দেখা।
ফজরের নামাজের পর সকালে নাসিরনগরের ঐতিহ্যবাহী বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠে দেখা যায়, চারদিক হালকা কুয়াশায় আচ্ছন্ন। এছাড়াও গোটা উপজেলায় মাঠে- প্রান্তরে একই দৃশ্য দেখা গেছে। নীল আকাশের ক্যানভাসে সাদা পেঁজা তুলোর মতো মেঘ আর নদীর ধারে কাশফুলের শুভ্রতার মাঝেই প্রকৃতির এই আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে শরতের শেষ বিকেলের বিদায় ও হেমন্তের আহ্বান। একই সঙ্গে আশ্বিনের এ ভোরে গরমের তীব্রতা কমে এসে ভোরের বাতাস বেশ আরামদায়ক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় কলেজ মাঠে প্রাতঃভ্রমণে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, “আজ আশ্বিনের প্রথম সকালে হাটার জন্য বের হয়ে দেখি চারদিক ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে। নাসিরনগরে সকাল ৫ টায় এমন কুয়াশা আরহালকা শীতের আমেজ সত্যি মন জুড়িয়ে দেয়।”
ভোরে ফুটবল খেলতে আসা সোহেল বলেন, আশ্বিন-কার্তিক মাস কেবল প্রকৃতির রূপবদলের মাসই নয়, এটি উৎসব ও কৃষকের আশা জাগানিয়া মাস।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব ‘শারদীয় দুর্গাপূজা’ এই মাসেই অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে, কৃষকদের মাঠে রোপা আমন ধান সবুজ ধীরে ধীরে সবুজ রং ধারণ করতে শুরু করেছে, যা প্রান্তিক চাষীদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে।