বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিটিএমএ নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়
ঢাকা প্রতিনিধি॥
দেশের বস্ত্র ও টেক্সটাইল শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, সম্ভাবনা এবং খাতটির বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতৃবৃন্দ।
মতবিনিময় সভায় দেশের টেক্সটাইল ও স্পিনিং শিল্পের উৎপাদন, বিনিয়োগ, জ্বালানি সরবরাহ, আমদানি-রপ্তানি, শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা এবং নীতিগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। শিল্প খাতের দীর্ঘমেয়াদি বিকাশে সরকারের নীতিগত সহায়তা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিটিএমএ দেশের সুতা ও কাপড় উৎপাদনকারী এবং টেক্সটাইল পণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী মিলগুলোর জাতীয় সংগঠন। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, দেশে তাদের প্রায় ১ হাজার ৮৮৩টি সদস্য মিল রয়েছে। এর মধ্যে ৫৩০টি সুতা উৎপাদনকারী, ১ হাজার ৮টি কাপড় উৎপাদনকারী এবং ৩৪৫টি ডাইং, প্রিন্টিং ও ফিনিশিং মিল।
বিটিএমএ জানিয়েছে, দেশের প্রাথমিক বস্ত্র খাতে প্রায় ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ রয়েছে। এ খাত থেকে দেশের নিট পোশাকশিল্পের সুতার প্রায় শতভাগ এবং ওভেন পোশাকশিল্পের সুতার প্রায় ৬০ শতাংশ সরবরাহ করা হয়। ফলে পোশাক রপ্তানিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে টেক্সটাইল শিল্পের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
মতবিনিময়কালে শিল্প উদ্যোক্তারা খাতটির বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যার কথা বিরোধীদলীয় নেতার কাছে তুলে ধরেন। বিশেষ করে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার মতো জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট, আমদানি নীতি, বন্ড সুবিধা, কাঁচামালের সরবরাহ এবং দেশীয় শিল্পের সঙ্গে আমদানিকৃত পণ্যের প্রতিযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
এর আগে চলতি বছরের আগস্টে বিটিএমএ দেশের স্পিনিং শিল্প সুরক্ষায় ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল। সংগঠনটির বক্তব্য ছিল, দেশে এই ধরনের সুতা উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কম দামে আমদানিকৃত সুতা এবং ভুল ঘোষণা দিয়ে আনা সুতার কারণে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো ক্ষতির মুখে পড়ছে।
বিটিএমএর পক্ষ থেকে শিল্পের জন্য স্থিতিশীল নীতিমালা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। উদ্যোক্তারা মনে করেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
মতবিনিময় সভায় ডা. শফিকুর রহমান শিল্প উদ্যোক্তাদের বক্তব্য শোনেন এবং টেক্সটাইল খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন শিল্প খাতের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতা প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে সংশ্লিষ্ট খাতের সমস্যা, সম্ভাবনা ও নীতিগত চাহিদা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের পশ্চাৎ সংযোগ শিল্প হিসেবে টেক্সটাইল খাতের গুরুত্ব অনেক। দেশীয়ভাবে সুতা ও কাপড়ের বড় অংশের চাহিদা পূরণ হওয়ায় এ খাতের সক্ষমতা সরাসরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন ব্যয়, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, আমদানি প্রতিযোগিতা এবং বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেক্সটাইল খাতকে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা ও বিনিয়োগ ধরে রাখতে নীতির ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিটিএমএ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার এই মতবিনিময় সভায় শিল্পের বর্তমান সংকটের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হওয়ায় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী শিল্পখাত নিয়ে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলের আলোচনার ধারাবাহিকতায় এটি নতুন সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।