পারস্পরিক আস্থা তৈরি হলেই ভারত সফর, তাড়াহুড়ো নেই: হুমায়ুন কবির
ঢাকা:
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস ও সম্মানজনক কূটনৈতিক পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে তাড়াহুড়োর পরিবর্তে পারস্পরিক স্বার্থ, সার্বভৌম সমতা এবং সম্মানজনক আলোচনার পরিবেশ নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের অগ্রাধিকার।
২০ আগস্ট প্রকাশিত বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৭ আগস্ট দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন কবির এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নানা খবর প্রকাশিত হলেও সফরের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
আস্থার পরিবেশই সফরের মূল শর্ত
হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য শুধু আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ যথেষ্ট নয়। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো না করে জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে সুনির্দিষ্ট বিষয়ে ঐকমত্য এবং সম্মানজনক আমন্ত্রণের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জুলাইয়ের পর বদলে যাওয়া বাস্তবতার স্বীকৃতি চায় ঢাকা
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন এসেছে। নতুন বাস্তবতাকে ভারত কীভাবে মূল্যায়ন করছে, তার ওপরও ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অনেকাংশে নির্ভর করবে বলে তিনি মনে করেন।
তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা, জনগণের ম্যান্ডেট এবং সার্বভৌম সমতার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ঢাকা চাইছে, ভারতও পরিবর্তিত বাস্তবতাকে যথাযথভাবে উপলব্ধি করে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন ভিত্তিতে এগিয়ে নিক।
BRICS সম্মেলন ঘিরে আলোচনা
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে BRICS সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করতে পারেন—এমন আলোচনা ভারতীয় গণমাধ্যমে থাকলেও বাংলাদেশ এখনই এ বিষয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করতে চাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির।
তবে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে BRICS সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে ঢাকা ইতিবাচক মনোভাব দেখাতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের সম্ভাবনা
এদিকে ভারতীয় পক্ষ থেকেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সম্প্রতি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হলে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সম্ভাব্য সফরটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে।
তবে দুই দেশের সম্পর্কে এখনো বেশ কিছু সংবেদনশীল বিষয় রয়েছে। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত পাঠানোর বাংলাদেশের দাবি অন্যতম। রয়টার্সও জানিয়েছে, এই বিষয়সহ ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তৈরি হওয়া টানাপোড়েনের কারণে ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কে চাপ রয়েছে।
নতুন সমীকরণের অপেক্ষায় ঢাকা-দিল্লি
সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে নয়, বরং ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক পুনর্গঠনের সম্ভাব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে—সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে পারস্পরিক আস্থা, সার্বভৌম সমতা, সম্মান ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে। আর ভারত যদি বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দিয়ে সহযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করে, তাহলে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের যোগাযোগ নতুন মাত্রা পেতে পারে।
এখন মূল প্রশ্ন—কবে হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর, এবং সেই সফর কি দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক দূরত্ব কমিয়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ককে নতুন পথে নিয়ে যেতে পারবে?
উত্তর মিলবে আগামী দিনের কূটনৈতিক আলোচনায়।