আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানিতে আদালতে হট্টগোল, আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতি
ঢাকা প্রতিনিধি॥
বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত ও বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে ঢাকার আদালতে উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির সময় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিচারক এজলাস থেকে উঠে যান।
আদালতে উপস্থিত আইনজীবীদের মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
ঘটনার কারণে আদালতকক্ষে কিছু সময়ের জন্য অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হলেও আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় বিচারক এজলাস ত্যাগ করেন।
আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে করা মামলাটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার সূত্র ধরে দায়ের করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সময় বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে হুমকি এবং দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে অশোভন আচরণ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এর আগে শুক্রবার রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন শনিবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শনিবারের শুনানিতে আখতারুজ্জামানের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেছিলেন। আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকসহ আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্য করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য ছিল, মামলার অভিযোগ জামিনযোগ্য এবং আখতারুজ্জামানকে জামিন দেওয়া উচিত।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরে জামিনের বিরোধিতা করেন। তদন্তের স্বার্থে আখতারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলেও রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়।
এর আগে শনিবার আদালতে আখতারুজ্জামানের আচরণ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়। আদালতে নেওয়ার সময় তিনি প্রিজন ভ্যান থেকে হেলমেট ছুড়ে ফেলেন এবং পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটি করেন। শুনানির সময় আদালত ও রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়ে তাঁর কিছু বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী অভিযোগ করেন, আখতারুজ্জামান আদালতকে হেয় করার মতো বক্তব্য দিয়েছেন এবং শুনানির সময় মারমুখী আচরণ করেছেন। তবে আখতারুজ্জামানের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁর মক্কেল আদালতে সুন্দরভাবে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন এবং আদালতকে হেয় করার মতো কোনো বক্তব্য দেননি।
এদিকে রোববারের জামিন শুনানিতে আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা মামলাটিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আদালতের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনজীবীদের এমন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আখতারুজ্জামানের জামিনের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে এবং বিমানবন্দরকেন্দ্রিক মামলার তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। একই সঙ্গে আদালতে সংঘটিত হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনায় কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মামলায় আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।