কমলগঞ্জের চুরির গরু, কুলাউড়ায় আওয়ামীলীগ নেতার বাড়ীতে
তিমির বনিক,
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা থেকে সম্প্রতি চুরি হয়ে যাওয়া একটি গরু কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও আওয়ামীলীগ নেতা গোলজার আহমদ এর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গরু চুরির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী এই গরু উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে। গোলজার আহমদ কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও হাজিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এর দায়িত্বে রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কমলগঞ্জের আলীনগর ইউনিয়নের সুনছড়া চা-বাগান এলাকা থেকে গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে শুভাস কৈরী নামে এক শ্রমিকের একটি গাভী গরু চুরি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন সুনছড়া বাগানের যোগিবিল এলাকার বাসিন্দা কাশেম ও আব্দুর রহিমকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে গলায় জুতোর মালা পড়িয়ে দেন। পরে তাদের দেয়া স্বীকারোক্তিতে শমসেরনগরের বড়চেগ এলাকার মুন্নার বাড়িতে গিয়ে তাকে মারধর করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন উত্তেজিত লোকজন। ওই সময় মুন্নার দেয়া স্বীকারোক্তিতে চুরি যাওয়া গরু কুলাউড়ার হাজীপুর ইউনিয়নের মেম্বার গোলজারের বাড়িতে রয়েছে বলে সে জানায়। এরপর স্থানীয় লোকজন ও গরুর মালিক মুন্নাকে সাথে নিয়ে গত ২ দিন আগে হাজীপুর ইউনিয়নের বিলেরপাড় এলাকায় গোলজার আহমদের বাড়িতে গিয়ে চুরি হওয়া গরু উদ্ধার করেন। নাম প্রকাশে না করা শর্তে কয়েকজন জানান, চুরি হওয়া গরু উদ্ধারের সময় গোলজার আহমদ তার বাড়িতেই ছিলেন। অজ্ঞাত কারনে মেম্বার গুলজার আহমদকে পুলিশ আটক করেনি। পরে সাদা কালারের একটি মাহিন্দ্র পিকআপ গাড়ি দিয়ে গরুটি কমলগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে চুরির ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গোলজার আহমদের নাম জড়িয়ে বিভিন্ন পোস্ট করতে দেখা গেছে। হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য গোলজার আহমদ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মুন্না কে বা কারা আমি চিনিনা। কোথাকার গরু কে চুরি করেছে সেটিও আমি জানিনা। আপনার বাড়িতে চুরির গরু কিভাবে আসলো এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে নানান টালবাহানা করেন।তিনি বলেন, স্থানীয় একটি মহল আমার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন থেকে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছে। এর আগেও আমার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ গরু চুরির মামলা করেছিল কিন্তু আমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি।
কমলগঞ্জ থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুবীর বিক্রম বলেন, স্থানীয় লোকদের সহায়তায় চুরির ঘটনার সাথে জড়িত তিনজনকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে সুনছড়া বাগানের শ্রমিক শুভাষ কৈরী গরু চুরির ঘটনায় থানায় লিখিত কোন অভিযোগ দেননি। তবে আটক আসামীদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার সাথে আর কারা জড়িত রয়েছে তাদের শনাক্ত করা সহজ হয়ে যাবে।