২০২০ সালে মসজিদ আল-মদিনার বোর্ড অব ট্রাস্টির বিরুদ্ধে মামলা, নাজিম উদ্দিনসহ ৯০ জনের বেশি সদস্যের আইনি লড়াই শুরু
নিজস্ব প্রতিনিধি,
যুক্তরাষ্ট্র পেনসিলভেনিয়া॥
প্রতিবেদন ১॥
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় মসজিদ আল-মদিনার পরিচালনা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২০ সালে আদালতের দ্বারস্থ হন নাজিম উদ্দিন ও সাধারণ পরিষদের ৯০ জনের বেশি সদস্য। তাঁদের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলার বিবাদী ছিল মসজিদ আল-মদিনার বোর্ড অব ট্রাস্টি (পরিচালনা পর্ষদ)। অর্থাৎ, মামলাটি পরিচালনা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বোর্ড অব ট্রাস্টির বিরুদ্ধে করা হয়েছিল; মসজিদ আল মদিনার বিরুদ্ধে নয় । মসজিদ আল-মদিনা একটি ইসলামিক ধর্মীয় পুতিষ্ঠান যা সকল ইমানদার ব্যক্তির আবেগের জায়গা । তাই নিশ্চিতভাবে বলাই যায় মসজিদ আল মদিনা আর পরিচালনা পর্ষদ দুটি আলাদা বিষয় । সুতরাং মসজিদ আল-মদিনা এবং তার পরিচালনা পর্ষদকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও প্রাথমিক প্রতিকার চেয়ে আবেদন দাখিল করা হয়। নাজিম উদ্দিন নিজের পক্ষে এবং সাধারণ পরিষদের ৯০ জনের বেশি সদস্যের পক্ষে এই আইনি উদ্যোগ নেন। মামলার উদ্দেশ্য ছিল মসজিদের পরিচালনা-সংক্রান্ত বিরোধে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া এবং সদস্যদের উত্থাপিত বিষয়গুলোর প্রতিকার পাওয়া।
মামলায় বিবাদীপক্ষ হিসেবে মসজিদ আল-মদিনার বোর্ড অব ট্রাস্টি নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। ২০২১ সালের ২৪ মার্চ বোর্ডের পক্ষ থেকে আদালতে জবাব দাখিল করা হয়। এরপর মামলাটি কোন আদালত বিভাগে চলবে, তা নিয়ে আইনি কার্যক্রম শুরু হয়। ২০২১ সালের ২৪ মে মামলাটি এতিম ও উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত আদালত বিভাগে স্থানান্তরের আবেদন করা হয়। ১৬ ডিসেম্বর আদালত স্থানান্তরের আদেশ দেন।
এই মামলার সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে বাদী ও বিবাদীর পরিচয় স্পষ্ট করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাজিম উদ্দিন ও সাধারণ পরিষদের ৯০ জনের বেশি সদস্য ছিলেন আবেদনকারী পক্ষ। অন্যদিকে, মামলার বিবাদী এবং পরবর্তী সময়ে আপিলকারী ছিল মসজিদ আল-মদিনার বোর্ড অব ট্রাস্টি। বোর্ড হলো পরিচালনা পর্ষদ; মসজিদ হলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। দুটি বিষয় এক করে উপস্থাপন করলে পাঠকের কাছে মামলার প্রকৃত পক্ষ সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।
মামলা দায়ের হওয়া মানেই আবেদনকারীদের সব বক্তব্য প্রমাণিত হয়ে যাওয়া নয়। একইভাবে, বোর্ডের জবাব দাখিল করাও বোর্ডের পক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। কোন পক্ষ কী দাবি করেছে এবং আদালত কোন পর্যায়ে কী আদেশ দিয়েছেন, তা ধারাবাহিকভাবে পর্যালোচনা করলেই মামলার প্রকৃত চিত্র বোঝা সম্ভব।
২০২০ সালে শুরু হওয়া এই আইনি লড়াই পরবর্তী সময়ে মধ্যস্থতা, মধ্যস্থতাকারীর সুপারিশ কার্যকর করা এবং সেই আদেশের বিরুদ্ধে মসজিদ আল-মদিনার বোর্ড অব ট্রাস্টির একাধিক আবেদন ও আপিলের মধ্য দিয়ে এগোয়। ২০২৫ সালের কমনওয়েলথ আদালতের সিদ্ধান্তে মামলার এই ধারাবাহিকতার গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ উঠে এসেছে।
তথ্যসূত্র: পেনসিলভানিয়ার কমনওয়েলথ আদালতের প্রকাশিত সিদ্ধান্ত, নাজিম উদ্দিন বনাম মসজিদ আল-মদিনার বোর্ড অব ট্রাস্টি, মামলা নম্বর ৯২০ সি.ডি. ২০২৪; ডেলাওয়্যার কাউন্টির আদালতের নথি, মামলা নম্বর ০৬০১-২০২১-ও; ৩ জানুয়ারি ২০২০-এর প্রাথমিক আবেদন, ২৪ মার্চ ২০২১-এর জবাব এবং ১৬ ডিসেম্বর ২০২১-এর স্থানান্তর-সংক্রান্ত আদেশ।