অনলাইন, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩.২ শতাংশে নামাল আইএমএফ, মূল্যস্ফীতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে হারিকেন সাইমন ও ঝড় র‍্যাচেলের তাণ্ডব, নিহত অন্তত ৫ যুক্তরাষ্ট্রের জেএফকে বিমানবন্দরে যুবলীগ নেতাদের হেনস্তার শিকার ড. মুহাম্মদ ইউনূস, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ হারিয়ে যেতে বসা ঘোড়ার গাড়িতে ঘোরে সংসারের চাকা দূর্গাপূজায় টানা ৮দিন বন্ধ থাকবে বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বিএনপি সরকার বারবার ন্যারেটিভ তৈরি করার চেষ্টা করছে: গোলাম পরওয়ার যবিপ্রবিতে নজরকাড়া ‘লুঙ্গি প্যারেড’ নওগাঁয় বিয়েতে পরিবারের অসম্মতি, ঘর থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার দুর্গাপূজা ঘিরে নোয়াখালী'র কোম্পানীগঞ্জে নিরাপত্তা জোরদারসহ পৌরসভা জামায়াত আমীরের ১৪ দফা দাবি নোয়াখালী সদরে ডিবির অভিযান, ৮০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার রাজনগরে সাবেক ওয়ার্ড মেম্বারকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া কুলাউড়ার প্রথম সাংসদ ব্যারিস্টার মুন্তাকিম চৌধুরী আর নেই শ্রীমঙ্গলে ২৯ পিস ইয়াবাসহ এক নারী গ্রেপ্তার থানা উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি যুবদল নেতার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
হোম › আন্তর্জাতিক › মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে হারিকেন সাইমন ও ঝড় র‍্যাচেলের তাণ্ডব, নিহত অন্তত ৫

মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে হারিকেন সাইমন ও ঝড় র‍্যাচেলের তাণ্ডব, নিহত অন্তত ৫

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১:৫৩ এএম, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ 3
মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে হারিকেন সাইমন ও ঝড় র‍্যাচেলের তাণ্ডব, নিহত অন্তত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||


মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে হারিকেন সাইমন ও ট্রপিক্যাল স্টর্ম র‍্যাচেলের প্রভাবে প্রাণহানি, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুই ঝড়ের প্রভাবে দেশটিতে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা ও জরুরি সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাইমন মেক্সিকোর পশ্চিম উপকূলের কাছে অবস্থান করে প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত ঘটায়। অন্যদিকে, র‍্যাচেলের প্রভাবে বিশেষ করে বাজা ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। ঝড় দুটির প্রভাব উপকূলীয় জনপদ, যোগাযোগব্যবস্থা এবং বসতবাড়ির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।


সাইমনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত পশ্চিম উপকূল


হারিকেন সাইমনের প্রভাবে জালিসকো ও গুয়েরেরোসহ মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি, শক্তিশালী ঢেউ এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র পুয়ের্তো ভায়ার্তারার আশপাশেও ঝড়ের প্রভাব পড়ে।


সাইমনের কেন্দ্র সরাসরি উপকূলে আছড়ে না পড়লেও এর বাইরের অংশ থেকে আসা প্রবল বাতাস ও বৃষ্টিপাত উপকূলীয় জনপদে ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়। কিছু এলাকায় বাড়িঘর ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়।


গুয়েরেরো অঙ্গরাজ্যে ভারী বৃষ্টির কারণে একটি দেয়াল ধসে ৭১ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আকাপুলকো ও চিলপানসিঙ্গোসহ কয়েকটি এলাকায়ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।


র‍্যাচেলের প্রভাবে বন্যা ও ভূমিধস


ট্রপিক্যাল স্টর্ম র‍্যাচেলের অবশিষ্টাংশের প্রভাবে বাজা ক্যালিফোর্নিয়ার এনসেনাদা এলাকার বিভিন্ন স্থানে বন্যা ও ভূমিধস দেখা দেয়। এসব ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। নিহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


এ ছাড়া কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। একটি উদ্ধার অভিযানে ৩২ জনকে সরিয়ে নেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।


প্রবল বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকা, পাহাড়ি ঢাল এবং নদী-খালের আশপাশে নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ফলে উদ্ধারকারী দলগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।


আবহাওয়া পরিস্থিতি ও সতর্কতা


ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের ১২ অক্টোবরের পূর্বাভাসে সাইমনকে মেক্সিকোর উপকূলের অদূরে অবস্থানরত একটি শক্তিশালী হারিকেন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ওই সময় ঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার ছিল। পরবর্তী সময়ে ঝড়টি দুর্বল হওয়ার লক্ষণ দেখা গেলেও উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত ও বিপজ্জনক বাতাসের ঝুঁকি বজায় ছিল।


র‍্যাচেলের অবশিষ্টাংশ উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতি তৈরি করে। তবে মেক্সিকোর বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছিল।


উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম


ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধান, বিপজ্জনক স্থান থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর অবস্থা যাচাই এখন কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বন্যার পানি জমে থাকা এলাকা এবং ভূমিধসপ্রবণ স্থানে উদ্ধারকর্মীদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে।


আবহাওয়াবিদদের সতর্কতা অনুযায়ী, ঝড়ের বাতাস দুর্বল হয়ে গেলেও এর সঙ্গে আসা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও উপকূলীয় ঢেউ তাৎক্ষণিক বিপদ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নিচু উপকূলীয় এলাকা ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সতর্ক থাকা জরুরি।


ঝড় দুটির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।