কিয়েভে পাঁচ রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, জ্বালানি যুদ্ধবিরতি নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা
নিউইয়র্ক প্রতিনিধি ||
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাঁচটি রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ তুলেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সোমবার (১২ অক্টোবর) চালানো এ হামলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছ থেকে আগাম কোনো সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত জ্বালানি যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন এই হামলা রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আগাম সতর্কবার্তা না পাওয়ার অভিযোগ
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি জানান, কিয়েভের বেসামরিক অবকাঠামোয় পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। হামলার আগে ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছ থেকে কোনো আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সময়মতো পাওয়া গেলে প্রাণহানি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। এ ধরনের হামলার আগাম সতর্কতা বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে কোন কোন অংশীদারের কাছ থেকে সতর্কবার্তা প্রত্যাশা করা হয়েছিল এবং কেন তা পাওয়া যায়নি, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
জ্বালানি যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থান
হামলার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ইউক্রেন ও রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জ্বালানি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে স্পষ্ট ব্যবধান রয়েছে।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার পর ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা থেকে বিরত রয়েছে। বিপরীতে, তাঁর অভিযোগ, রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
১২ অক্টোবর ওয়ারশ নিরাপত্তা ফোরামে দেওয়া বক্তব্যেও জেলেনস্কি রাশিয়ার হামলার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের উদ্যোগ কার্যকর করতে হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে হবে।
তবে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর সমঝোতা হয়েছে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে ঘোষণাটির বাস্তব প্রয়োগ এবং এর আওতায় কোন ধরনের হামলা বন্ধ থাকার কথা, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সহায়তার গুরুত্ব
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের জন্য আগাম গোয়েন্দা তথ্য এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ ও উৎক্ষেপণ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে দ্রুত সতর্কবার্তা বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
জেলেনস্কির সাম্প্রতিক বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছ থেকে আগাম তথ্য না পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট হামলার ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা না পাওয়ার কারণ বা সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সহযোগিতায় কোনো আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন ঘটেছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
সংঘাতের বিস্তৃত প্রভাব
কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ এবং জ্বালানি যুদ্ধবিরতি নিয়ে মতপার্থক্য ইউক্রেনের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বেসামরিক অবকাঠামোর সুরক্ষা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। শীতকাল সামনে রেখে বিদ্যুৎ, পানি ও জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা ইউক্রেনের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।