আদালতের আদেশে নতুন ব্যালট-মেইল বিধি স্থগিত, USPS সেবা চালু
নিউইয়র্ক ॥
যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের (USPS) মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যালট ও অন্যান্য Election Mail পাঠানো নিয়ে সাম্প্রতিক আইনি জটিলতার মধ্যে নতুন ফেডারেল ব্যালট-মেইল বিধির কিছু বাধ্যতামূলক অংশ আপাতত স্থগিত করেছে আদালত। তবে এর অর্থ এই নয় যে USPS-এর মাধ্যমে মেইল-ইন বা অ্যাবসেন্টি ব্যালট পাঠানো বন্ধ হয়ে গেছে।
USPS-এর ৫ সেপ্টেম্বরের একটি অভ্যন্তরীণ Mandatory Stand-up Talk-এ কর্মীদের আদালতের আদেশ সম্পর্কে জানানো হয়। সেখানে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন বিধির আওতায় থাকা নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া কার্যকর করা যাবে না। একই সঙ্গে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী Election Mail ও Ballot Mail গ্রহণ, পরিবহন এবং ডেলিভারি অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কী নিয়ে এই আইনি বিরোধ?
২০২৬ সালের মার্চে প্রেসিডেন্টের একটি নির্বাহী আদেশের পর ফেডারেল নির্বাচনের ব্যালট-মেইল নিয়ে নতুন নিয়ম তৈরির উদ্যোগ নেয় USPS। পরে ২৬ আগস্ট চূড়ান্ত বিধি প্রকাশ করা হয়।
নতুন ব্যবস্থায় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত ব্যালট ও রিটার্ন খামের নকশা USPS-এর অনুমোদনের আওতায় আনা এবং নির্দিষ্ট ভোটার-সংক্রান্ত তথ্য একটি ফেডারেল অনলাইন পোর্টালে জমা দেওয়ার বিধান রাখা হয়।
নতুন নিয়মের বৈধতা নিয়ে কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ও সংগঠন আদালতের দ্বারস্থ হয়। তাদের বক্তব্য ছিল, নির্বাচনের অল্প সময় আগে এ ধরনের নতুন বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়ন করতে গেলে রাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য বড় ধরনের প্রশাসনিক ও কারিগরি সমস্যা তৈরি হতে পারে।
আদালতের সিদ্ধান্ত
৪ সেপ্টেম্বর ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত নতুন বিধির বাধ্যতামূলক অংশ বাস্তবায়নে preliminary injunction জারি করেন। আদেশটি বিশেষভাবে ৩ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যবর্তী নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
এরপর ১০ সেপ্টেম্বর ফেডারেল আপিল আদালতও সেই স্থগিতাদেশ বহাল রাখে। পরে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। ১৪ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের স্থগিতাদেশ তুলে দেয়নি। ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ক্ষেত্রে USPS-এর নতুন বাধ্যতামূলক ব্যালট-মেইল বিধির সংশ্লিষ্ট অংশ আপাতত কার্যকর হচ্ছে না।
তবে মামলার মূল আইনি প্রশ্নগুলোর এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
ব্যালট-মেইল কি তাহলে বন্ধ?
না।
এটাই বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।
আদালতের আদেশ USPS-এর মাধ্যমে বৈধ Mail-in বা Absentee Ballot-এর স্বাভাবিক ডাকসেবা বন্ধ করেনি। বরং নতুন বিধির নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে আটকে দেওয়া হয়েছে।
USPS-এর নিজস্ব Election Mail নির্দেশনায়ও বলা হয়েছে, ডাকসেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে Election Mail ও Ballot Mail গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন এবং ডেলিভারি তাদের দায়িত্বের অংশ।
৫ সেপ্টেম্বরের অভ্যন্তরীণ নির্দেশনাতেও কর্মীদের জানানো হয়েছে, বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী যে নির্বাচনী মেইল ডাকযোগে আসছে, সেগুলো যথাযথভাবে গ্রহণ ও ডেলিভারি করতে হবে।
অর্থাৎ নতুন নিয়ম স্থগিত হলেও নির্বাচনী ডাক চলাচল বন্ধ হয়নি।
ভোটারদের জন্য বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ডাকযোগে ভোট দেওয়া ভোটারদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের নিয়ম ও ব্যালট ফেরত দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণ করা।
USPS ভোটারদের পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে ব্যালট পাঠানোর পরামর্শ দিয়ে আসছে। কারণ ব্যালট ডাকযোগে পাঠানোর ক্ষেত্রে শুধু USPS-এর প্রক্রিয়া নয়, সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের নির্ধারিত deadline-ও গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, বর্তমান আইনি অবস্থাকে “USPS ব্যালট-মেইল বন্ধ করে দিয়েছে”—এভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। বরং আদালতের আদেশে USPS-এর নতুন ফেডারেল ব্যালট-মেইল বিধির নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক অংশ স্থগিত রয়েছে, আর বিদ্যমান নিয়মের আওতায় Election Mail ও Ballot Mail-এর স্বাভাবিক ডাকসেবা চালু রয়েছে।
মামলার পরবর্তী শুনানি ও সিদ্ধান্তের ওপর নতুন বিধিটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।
তথ্যসূত্র: U.S. Postal Service (USPS), U.S. District Court for the District of Massachusetts, U.S. Court of Appeals for the First Circuit, U.S. Supreme Court, Reuters ও Associated Press।
নিউইয়র্ক ভয়েস বাংলা (NYVB) নিজস্ব প্রতিবেদন