বাঁধনের ওপর হামলা ঘিরে সংসদে কঠোর বার্তা, ‘জুলাই যোদ্ধার ওপর আঘাত মানে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’
ঢাকা প্রতিনিধি:
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় জাতীয় সংসদে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, একজন জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়; এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপরও আঘাত।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে বক্তব্য দেওয়ার সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন।
ইতালির ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলার প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ বিষয়ে সরকার দ্রুত কূটনৈতিক ও আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি জানান, ঘটনার পর পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং রোমে বাংলাদেশের দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইতালির পুলিশ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বাঁধনকে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বাঁধন ইতালির পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করলে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ইতালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরবে।
হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যে উঠে আসে বিদেশে অবস্থানরত জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তার বিষয়টিও। তাঁর মতে, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো ব্যক্তি বিদেশের মাটিতে হামলা বা হেনস্তার শিকার হলে সেটিকে শুধু ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর আক্রমণ দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপরও আঘাত হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, সরকার ন্যায়বিচারের নীতিতে বিশ্বাস করে এবং বিদেশে পালিয়ে থাকা অপরাধীদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে সরকার পিছপা হবে না। বাঁধনের ওপর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও সম্ভাব্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে সংসদেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এর আগে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী এবং এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বিষয়টি সংসদে তুলে ধরে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ঘটনাটিকে অমার্জনীয় ও নিন্দনীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সব মিলিয়ে, ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনাটি এখন ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্নের পাশাপাশি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়েও পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ইতালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ঘটনার আইনগত প্রতিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে বিদেশে অবস্থানরত জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা এবং তাদের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারের কঠোর অবস্থানের বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে।