বিজয়ের পর প্রথম ভাষণে ইলহান ওমর: ঘৃণা ও ভয়ের রাজনীতির জবাব ব্যালটে
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে টানা পঞ্চমবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে প্রথম ভাষণ দিয়েছেন সোমালি বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক ইলহান ওমর। ভাষণে তিনি ঐক্যের জন্য ভোটারদের ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, ঘৃণা ও ভয়ের রাজনীতির জবাব ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমেই দিয়েছেন।
মিনেসোটার ৫ নম্বর কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে ইলহান ওমর বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউর হিসাবে, ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনায় তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৬৩ হাজার ১৬৬ ভোট (৭৬.৬৮ শতাংশ)। তাঁর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী জন নাগেল পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৮০৫ ভোট (১৬.২৬ শতাংশ)।
ভাষণে ইলহান ওমর বলেন, প্রতিপক্ষরা ভেবেছিল ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁর কমিউনিটিকে চুপ করিয়ে দেওয়া যাবে এবং মানুষকে ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে রাখা যাবে। কিন্তু ভোটাররা বিপুল সংখ্যায় ভোট দিতে এসেছেন। প্রতিপক্ষের আক্রমণের জবাবে তিনি বলেন, ‘মিনেসোটা এমন কোনো জায়গা নয়, যেখানে যা খুশি তা-ই করা যায়।’ ওহাইও, মেইন ও টেক্সাসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দেশজুড়ে ভোটাররা রাজনৈতিক কারসাজি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
নিজের শরণার্থী জীবনের কথা স্মরণ করে ইলহান ওমর মিনেসোটার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, মিনেসোটা কেবল একজন তরুণ শরণার্থীকে আশ্রয়ই দেয়নি, তাঁর পরিবারকে শিক্ষা ও সুযোগও দিয়েছে। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় হাউস ওভারসাইট কমিটির সম্ভাব্য নতুন প্রধান রবার্ট গার্সিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘হয়রানি ও রাজনৈতিক দমনপীড়নের দিন শেষ।’
মিনেসোটার ডেমোক্র্যাটিক-ফার্মার-লেবার পার্টির (ডিএফএল) বিবৃতিতে ইলহান ওমর বলেন, ‘মিনেসোটার ৫ নম্বর ডিস্ট্রিক্টের মানুষ আমাকে আবার কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন, এ জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। জনগণের প্রতিনিধি পরিষদে আপনাদের সেবা করা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।’
নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে, অক্টোবরের শুরুর দিকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনে ইলহান ওমরের বাসায় তল্লাশি চালান। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এটি একটি ফৌজদারি তদন্তের অংশ। কয়েকজন কর্মকর্তার দাবি, তদন্তটি তাঁর অভিবাসন–সংক্রান্ত। ইলহান ওমর সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং একে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ভয় দেখানোর কৌশল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
১৯৯৫ সালে সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন ইলহান ওমর। ২০১৮ সালে প্রথমবার কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়ে তিনি রাশিদা তালিবের সঙ্গে প্রথম দুই মুসলিম নারী কংগ্রেস সদস্যের একজন হন।
তথ্যসূত্র: এমপিআর নিউজ, ডিএফএল, ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ