‘ইনশাআল্লাহ এখন আলহামদুলিল্লাহ’: বিজয় ভাষণে আরবি শব্দে কৃতজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটরের
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে বিজয় ভাষণে আরবি শব্দ ব্যবহার করে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মিশিগানের ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক আবদুল এল-সাইয়েদ। ডেট্রয়েটে নিজের নির্বাচনী সদর দপ্তরে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজ রাতে আমরা সেই ইনশাআল্লাহকে আলহামদুলিল্লাহতে রূপ দিতে পারলাম।’
নির্বাচনী প্রচারণাজুড়ে ফলাফল নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এল-সাইয়েদ বারবার ‘ইনশাআল্লাহ’ (আল্লাহ চাহে তো) বলতেন। জয়ের পর সেই কথার সূত্র ধরেই তিনি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ (সব প্রশংসা আল্লাহর) বলে উল্লাস করেন। এ সময় সমর্থকেরা করতালি ও স্লোগানে তাঁকে অভিনন্দন জানান।
ভাষণের শুরুতে তিনি বলেন, ‘মিশিগান, আমরা পেরেছি!’ প্রচারণার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে বারবার ‘মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ’ বলে সম্বোধন করতেন। এর জবাবে মঞ্চে নিজের পুরো নাম উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘আমার নাম আবদুর রহমান মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের নির্বাচিত সিনেটর হিসেবে এখানে দাঁড়াতে পেরে আমি গর্বিত ও সম্মানিত।’
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে উদ্দেশ করে কৌতুক করে তিনি বলেন, ‘জেডি, হাবিবি, মজার বিষয় হলো, জানুয়ারিতে সংবিধান অনুযায়ী আপনাকেই আমাকে শপথ পড়াতে হবে।’ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট পদাধিকারবলে সিনেটের সভাপতি হিসেবে নতুন সিনেটরদের শপথ পড়ান।
নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউয়ের হিসাবে, ৯৪ শতাংশ ভোট গণনায় এল-সাইয়েদ পেয়েছেন ২৩ লাখ ৯০ হাজার ৭৫৭ ভোট (৫২.২৬ শতাংশ)। ট্রাম্প–সমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স পেয়েছেন ২০ লাখ ৯২ হাজার ৫৭৭ ভোট (৪৫.৭৪ শতাংশ)।
প্রচারণার সময় ট্রাম্প, ভ্যান্স ও রজার্সের বিরুদ্ধে এল-সাইয়েদকে লক্ষ্য করে ইসলামবিদ্বেষী আক্রমণের অভিযোগ ওঠে। ট্রাম্প তাঁকে ‘জিহাদি’ হিসেবেও আখ্যা দেন। অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস তাঁর পক্ষে প্রচারণা চালান।
মিশরীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক আবদুল এল-সাইয়েদ এর আগে ডেট্রয়েট ও ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রচারণায় তিনি বলেছিলেন, ইরান যুদ্ধ ও ইসরায়েলকে সহায়তায় ব্যয় হওয়া অর্থ সংকটে থাকা মার্কিন নাগরিকদের জন্য খরচ করা উচিত। ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া মিশিগানে তাঁর এই জয় সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি বিস্ট, দ্য নিউ রিপাবলিক, নিউজএক্স, ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ