নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী আবের কাওয়াস
ইতিহাস গড়ে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক আবের কাওয়াস। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কুইন্সের স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট ১২ আসনে তিনি জয়ী হয়েছেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান তিনি।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস মঙ্গলবার রাতে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনার পর তাঁর জয়ের ঘোষণা দেয়। এ পর্যন্ত গণনায় তিনি প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। প্রতিপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় করলেও শেষ পর্যন্ত বিপুল ব্যবধানে জয় পান কাওয়াস।
জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে আবের কাওয়াস লেখেন, ‘আমরা ইতিহাস গড়েছি।’ পোস্টে তিনি একটি ছবি যুক্ত করেন, যার ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে নির্বাচিত প্রথম ফিলিস্তিনি’।
দীর্ঘদিনের স্টেট সিনেটর মাইকেল জিয়ানারিস অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর এ আসনে প্রার্থী হন কাওয়াস। গত ২৩ জুন ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে তিনি অ্যাসেম্বলি সদস্য স্টিভেন রাগাকে হারিয়ে দলীয় মনোনয়ন পান। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি, সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব তাঁকে সমর্থন দেন।
১৯৯২ সালে ব্রুকলিনে জন্ম নেওয়া আবের কাওয়াসের মা–বাবা ১৯৯০-এর দশকে ফিলিস্তিন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। শৈশবে তাঁর বাবাকে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আটক করে দেশে ফেরত পাঠায়। ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি শ্রমিক অধিকার, অভিবাসী কমিউনিটি ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন। আরব আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব নিউইয়র্কের অ্যাডভোকেসি পরিচালক ছিলেন তিনি। এ ছাড়া কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার) ও আরবান জাস্টিস সেন্টারের সঙ্গেও কাজ করেছেন।
সিটি কলেজ অব নিউইয়র্ক থেকে আন্তর্জাতিক বিষয়ে স্নাতক এবং দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন কাওয়াস। ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার (ডিএসএ) সদস্য এই রাজনীতিক নির্বাচনী প্রচারণায় আবাসন ও ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা, অভিবাসীদের অধিকার, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও বিনা ভাড়ায় বাসসেবার প্রতিশ্রুতি দেন।
কুইন্সে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় ও মুসলিম অভিবাসীর বসবাস। মেয়র মামদানির জয়ের পর নিউইয়র্কে মুসলিম প্রগতিশীল রাজনীতিকদের ধারাবাহিক সাফল্যের মধ্যে কাওয়াসের এ জয়কে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, উম্মিদ ডটকম, কুয়েত টাইমস