চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ১৩ বছরের শিশুর মৃত্যু, পরিবারের অভিযোগ
মোহাম্মদ উল্যা
নোয়াখালী প্রতিনিধি॥
নোয়াখালীর মাইজদী দত্তেরহাট এলাকার একটি চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে মোসলেম নামে ১৩ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসাসেবার মান, দায়িত্বশীলতা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধুলার সময় এক শিশুর আঘাতে মোসলেমের চোখে রক্ত জমে যায় এবং চোখ ফুলে ওঠে। স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে মাইজদী দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরিবারের দাবি, হাসপাতালে নেওয়ার পর তাদের জানানো হয়, ‘বড় ডাক্তার’ আসছেন। প্রায় ৩০ মিনিট পর আবুল হোসেন নামের এক সিনিয়র অপটোমেট্রিস্ট হাসপাতালে আসেন। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে দেখার পর তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং সেখানে তার চোখে তিনটি ইনজেকশন দেওয়া হয়।
এর কিছুক্ষণ পর মোসলেমের মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে থাকে এবং সে অচেতন হয়ে পড়ে বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। পরে তাকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে শিশুটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ কী—তা ময়নাতদন্ত, চিকিৎসা নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। ইনজেকশন বা চিকিৎসা-পদ্ধতির সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়; এটি বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক ও অপটোমেট্রিস্টের দায়িত্বের সীমারেখা, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, ওষুধের মান এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
একটি শিশুর জীবন কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয় হতে পারে না। তাই মোসলেমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, চিকিৎসা নথি যাচাই, ব্যবহৃত ওষুধ ও ইনজেকশনের মান পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব নির্ধারণ জরুরি।
পরিবারটি হারিয়েছে তাদের সন্তানকে, কোনো তদন্তই সেই জীবন ফিরিয়ে দিতে পারবে না। তবে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হয়তো ভবিষ্যতে আরেকটি পরিবারকে এমন অপূরণীয় শোক থেকে রক্ষা করতে পারে।