ইসরাইলের নিরাপত্তার স্বার্থে নেতানিয়াহুকে সরানোর দাবি বিরোধী এমপির
আন্তর্জাতিক ডেস্ক॥
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধী দলের এমপি গিলাদ কারিভ প্রধানমন্ত্রীকে পদ থেকে সরানোর দাবি জানিয়ে বলেছেন, ইসরাইলি সমাজের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থেই নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের অবসান প্রয়োজন।
ডেমোক্র্যাটস পার্টির এই আইনপ্রণেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে ও পরে ইসরাইলের নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে নেতানিয়াহুর ভূমিকার সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, ওই হামলার পর সামরিক বাহিনীর তদন্তে যেসব ব্যর্থতা উঠে আসছে, সেগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী যথেষ্ট উদ্যোগ নিচ্ছেন না।
কারিভের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তা পরিচালনায় নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তিনি মনে করেন, এমন একজন নেতার হাতে দেশের ভবিষ্যৎ ও পরবর্তী প্রজন্মের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত থাকা উচিত নয়। এ কারণেই তিনি নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরানোকে ইসরাইলি সমাজের জন্য একটি ‘অস্তিত্বগত প্রয়োজন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
৭ অক্টোবরের হামলার নিরাপত্তাগত ব্যর্থতা তদন্তে ইসরাইলে দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি রয়েছে। বিরোধী দল ও সমাজের বিভিন্ন অংশ এ ধরনের তদন্তের পক্ষে থাকলেও নেতানিয়াহুর সরকার প্রস্তাবিত স্বাধীন কমিশন পদ্ধতি গ্রহণ করেনি; এর পরিবর্তে সরকার-সমর্থিত তদন্ত কাঠামোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিষয়টি নেতানিয়াহু সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে।
এদিকে আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের নেসেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু ও তাঁর লিকুদ পার্টিকে নিয়ে জনমত জরিপে চাপের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ফলে নিরাপত্তা ব্যর্থতার জবাবদিহি, যুদ্ধনীতি এবং সরকারের নেতৃত্ব—এসব ইস্যু আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাও চলমান। ফলে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি তাঁর নেতৃত্বকে ঘিরে আইনি চাপও অব্যাহত রয়েছে।