Columbus, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
বেতন সর্বোচ্চ ৫৭,৫১০ টাকা, মেঘনা পেট্রোলিয়ামে নিয়োগ জাহাজ চলাচলে নতুন বিধিনিষেধ, হরমুজের বাইরেও অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে ইরান চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ১৩ বছরের শিশুর মৃত্যু, পরিবারের অভিযোগ তিস্তায় ভয়াবহ ভাঙন, শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে; ঝুঁকিতে আরও শত শত পরিবার ৩০ মিটার গভীর খাদে বাস, কেপ ভার্দেতে নিহত ২৫—বেশিরভাগই শিক্ষার্থী শপথ নিলেন পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া কিডি কার্নিভালে মুগ্ধ চ্যান্সেলর স্যামুয়েলস, তরুণদের ঐতিহ্য উদযাপনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান ইসরাইলের নিরাপত্তার স্বার্থে নেতানিয়াহুকে সরানোর দাবি বিরোধী এমপির পেপারবিহীন সংসদ প্রতিষ্ঠায় ই-পার্লামেন্ট চালুর উদ্যোগ বড়লেখায় খালে ভাসছিল নবজাতক কন্যাশিশুর লাশ কম্পিউটারে জাল নোট তৈরির অভিযোগ, ৪৭ হাজার টাকার জাল নোটসহ গ্রেপ্তার কোম্পানীগঞ্জে মৎস্য প্রজেক্ট থেকে ২০ মণ মাছ চুরির অভিযোগ কোম্পানীগঞ্জে ৫৩তম জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা, মার্কিন চালকবিহীন নৌযানে হামলার দাবি ইরানের স্বাস্থ্য খাতে বড় নিয়োগ শুরু, তিন মাসে ৭,৫০০ চিকিৎসক ও ৫,০০০ নার্স নিয়োগের পরিকল্পনা
হোম বাংলাদেশ তিস্তায় ভয়াবহ ভাঙন, শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে; ঝুঁকিতে আরও শত শত পরিবার

তিস্তায় ভয়াবহ ভাঙন, শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে; ঝুঁকিতে আরও শত শত পরিবার

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৯:০১ পিএম, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 19
তিস্তায় ভয়াবহ ভাঙন, শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে; ঝুঁকিতে আরও শত শত পরিবার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:


উজানের ঢল ও নদীর প্রবল স্রোতে তিস্তা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি চর এলাকায় গত কয়েক দিনে তীব্র ভাঙনে শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সর্বশেষ ৭২ ঘণ্টায় অন্তত ৮৩টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে চলে যাওয়ার তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অন্তত ২০০ পরিবার।


এক রাতেই বিলীন বহু বসতভিটা


স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বুধবার রাত থেকে ভোরের পাখি চর এলাকায় হঠাৎ ভাঙন তীব্র হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বহু পরিবারের ঘরবাড়ি, গাছপালা ও গবাদিপশুর স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৬০টি পরিবারের বসতভিটা এক রাতেই নদীগর্ভে চলে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখন খোলা জায়গা, বাঁধ কিংবা স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।


এলাকাটিতে চলতি বর্ষা মৌসুমে এর আগেও একাধিক দফা ভাঙন হয়েছে। গত ১৬ জুলাই আকস্মিক ভাঙনে প্রায় ১০০ পরিবারের বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে ১৮ আগস্ট ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও নদীগর্ভে বিলীন হয়।


ঝুঁকিতে আরও দুই শতাধিক পরিবার


ভাঙন অব্যাহত থাকায় এলাকার আরও অন্তত ২০০ পরিবার এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত নদীতীর রক্ষায় পর্যাপ্ত জিওব্যাগ ফেলার দাবি জানিয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে।


সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তা প্রস্তুত হলে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শুকনো খাবারও বিতরণ করা হয়েছে।


তিস্তায় পানির চাপও বাড়ছে


গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বর তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে আগের ২৪ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা কয়েক সেন্টিমিটার বেড়েছিল। তবে ওই পয়েন্টে পানি তখনও বিপৎসীমার নিচে ছিল। অর্থাৎ বর্তমান সংকটের বড় দিকটি হলো নদীর তীব্র ভাঙন, শুধু বন্যার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করা নয়।


অন্যদিকে, দেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা ও অন্যান্য নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীতীরবর্তী নিচু এলাকা ও চরাঞ্চলে নতুন করে ভাঙন ও প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রও ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের পানির কারণে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বাড়ার ঝুঁকির কথা জানিয়েছে।


স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দাবি


বারবার নদীভাঙনে ঘরবাড়ি ও স্থাপনা হারানো মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জরুরি জিওব্যাগ ফেলার পাশাপাশি তিস্তার ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। অন্যথায় বর্ষা ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে আরও বহু পরিবার বসতভিটা হারাতে পারে।