স্বাস্থ্য খাতে বড় নিয়োগ শুরু, তিন মাসে ৭,৫০০ চিকিৎসক ও ৫,০০০ নার্স নিয়োগের পরিকল্পনা
নিজস্ব প্রতিনিধি ||
স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট মোকাবিলা এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর করতে বড় পরিসরে নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী তিন মাসের মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ চিকিৎসক ও ৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন শূন্য পদ পূরণে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডের শূন্য পদগুলোতে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিন মাসে চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ
স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান জনবল সংকট কমাতে আগামী তিন মাসে ৭ হাজার ৫০০ চিকিৎসক এবং ৫ হাজার নার্স নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের জনবল এবং শূন্য পদের হালনাগাদ তথ্য চাওয়া হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যসেবার জনবল ঘাটতি পূরণ করে দেশের উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা আরও শক্তিশালী করা।
৪৮তম বিসিএসের ১৮৪ চিকিৎসক যোগ দিচ্ছেন সোমবার
নিয়োগ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া আরও ১৮৪ চিকিৎসক আগামী ৭ সেপ্টেম্বর চাকরিতে যোগ দেবেন।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৬৫ জন সহকারী সার্জন এবং ১৯ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, তাদের ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় ঢাকার শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে উপস্থিত হয়ে যোগদানের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২৫ আগস্টের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এসব চিকিৎসককে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগ দিতে বলা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে নিয়োগ বাতিল হিসেবে গণ্য হওয়ার কথাও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শূন্য পদ পূরণে জরুরি উদ্যোগ
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে কতগুলো পদ শূন্য রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে হালনাগাদ তথ্য চাওয়া হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিসরের এই নিয়োগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে জনবল সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে চিকিৎসক ও নার্সের ঘাটতি রয়েছে এমন এলাকাগুলোতে নতুন জনবল যুক্ত হলে রোগীদের সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে।